মোহাম্মদ ইব্রাহিম
চট্টগ্রামে এনসিপির সংগঠককে মারধরের অভিযোগটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কাজ-কর্মের প্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পদযাত্রা ও পথসভা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। ২০ জুলাই চট্টগ্রামে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করার সময় এনসিপি নেতা-কর্মীদের উপর হামলার আশংকা প্রকাশ করা হয়। পূর্বে গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মীরা হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা একটি উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একই ধরনের ঘটনা চট্টগ্রামে হতে পারে বলে তারা মনে করছে। এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, চট্টগ্রামে তাদের পদযাত্রায় বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে; তবে তারা নিজে নিজেই তা প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এনসিপির কেন্দ্রীয়, দক্ষিণাঞ্চল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার উদ্যোগে পথসভা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তাদের দলের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে এনসিপির শ্রমিক উইং-এর ৯০ সদস্য বিশিষ্ট কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় পথসভা কর্মসূচি নিয়মিত কার্যকর করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকা ঘিরে এনসিপি সহ অন্যান্য তিন সংগঠন পুলিশের সংস্কারের দাবিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিলের উদ্যোগ নিয়েছে। এখানে এনসিপি যুগ্ম মুখ্য সংগঠক জুবাইর হাসান পটিয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীর গ্রেপ্তার, সড়ক অবরোধ ও ওসির অপসারণের দাবিসহ পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন। এছাড়া সেদিনের বিক্ষোভ মিছিলেও পুলিশের প্রতি সংস্কারের দাবি এবং হামলার প্রতিবাদ করা হয়।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন যে, কক্সবাজার, চকরিয়া ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপি সমর্থিত লোকজন এনসিপির পদযাত্রা ও গাড়িবহর আটকে দিয়েছে এবং দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় এনসিপি নেতারা তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বাধা, হানাহানি ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেছেন।
সুতরাং, চট্টগ্রামে এনসিপির সংগঠক মারধরের অভিযোগ রাজনৈতিক কর্মসূচি, হামলার আশংকা, পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ঘটে আসছে। এনসিপি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে এবং পুলিশের সংস্কারের জোর দাবি করছে।
এসব ঘটনায় এনসিপির নেতৃবৃন্দ দাবি করেছেন, তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং নিজের কর্মীদের নিরাপত্তা রক্ষায় সকল পদক্ষেপ নেবেন।