“চট্টগ্রাম বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার অংশ, কারও খেলার মাঠ নয়” — নাহিদ ইসলাম

By Wahed
2 Min Read

মোহাম্মদ ইব্রাহিম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এপসিপি)-এর প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “চট্টগ্রাম যুগ যুগ ধরে এই দেশের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। এটি শুধু বিদ্রোহের শহর নয়, স্বাধীনতার দুয়ার, ইসলামের প্রবেশদ্বার এবং বার আউলিয়ার পুণ্যভূমি। এই শহরের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে সমগ্র বাংলাদেশ একসঙ্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করবে।”

রোববার রাতে নগরীর ষোলশহরে আয়োজিত এপসিপির সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “চট্টগ্রাম নানা ষড়যন্ত্রের মুখে। পরাশক্তিরা এ শহরের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অঙ্গ। এখানকার নিরাপত্তা মানেই জাতীয় নিরাপত্তা।”

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম এক সময় ঢাকার পর দ্বিতীয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই শহর অতীতে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিরোধ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। কক্সবাজারে এনসিপির নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সত্য উন্মোচন করেছেন, এজন্য বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাঁশখালীতে আমাদের এক সহযোদ্ধাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা বলেছি, বাধা দিলে বাধবে লড়াই — আর সেই লড়াইয়ে আমরা জিতব।”

চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই শহরে পানি সংকট, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও লুটপাটের কারণে জনগণ দুর্ভোগে আছে। আমরা এই চট্টগ্রামকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই — নতুন বাংলাদেশে একটি আধুনিক, সুশাসিত চট্টগ্রাম গড়ার লক্ষ্যে কাজ করব।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “চট্টগ্রামকে নতুন অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমুদ্র ও নৌশক্তিকে কাজে লাগাতে হলে এই শহরকে শক্তিশালী করতে হবে। এনসিপি সেই দায়িত্ব নেবে। আমরা আর কাউকে খাওয়ার সুযোগ দেব না। বহুতদিন খাইয়্যু, আঁর ন খাইয়্যু।”

তিনি ঘোষণা দেন, “চট্টগ্রাম হবে জনগণের চট্টগ্রাম, নাগরিকের চট্টগ্রাম — কোনো গুটিকয়েক পরিবারের চট্টগ্রাম নয়। সব সম্প্রদায়ের অধিকার ও মর্যাদা এখানে রক্ষা পাবে।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারোয়ার নিপা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা প্রমুখ।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা সফলভাবে স্বৈরাচার পতন ঘটাতে পেরেছি, কিন্তু রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি। এখন আমাদের দায়িত্ব ভঙ্গুর রাষ্ট্রের কাঠামো পুনর্গঠন করা। তরুণ প্রজন্মকে দিয়ে এই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রচিত হবে — যারা কিনতে চায়, তারা জানুক, তরুণ প্রজন্ম বিক্রি হয় না।”

Share This Article
Leave a Comment