নিজস্ব সংবাদঃ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর পাহাড়তলী থানা পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০ জুন ২০২৫, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে এক সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করেন পাহাড়তলী থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব বাবুল আজাদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং এএসআই (নিঃ) সেলিম সরকার এর নেতৃত্বে। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন এসআই (নিঃ) আব্দুল্লাহ আল রিয়াদ, এএসআই মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ফোর্স।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ:
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের দলটি পাহাড়তলী থানাধীন অলংকার মোড়স্থ গ্রাম বাংলা কাউন্টারের সামনে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঁৎ পেতে থাকে। প্রায় মধ্যরাতে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে পুলিশ অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুইজনকে আটক করে। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় মোট ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়: ১) শাহ্ আলম (৪৫) পিতা: মৃত ফজল আহমদ,মাতা: মৃত দুলাই
,স্থায়ী ঠিকানা: কুতুপালং, ক্যাম্প-২, ব্লক-১০, থানা: উখিয়া, জেলা: কক্সবাজার
২) দোস মোহাম্মদ (৩০),পিতা: মৃত ফজল আহমদ,মাতা: মৃত দুলাই,স্থায়ী ঠিকানা: কুতুপালং, ক্যাম্প-২, ব্লক-১০, থানা: উখিয়া, জেলা: কক্সবাজার উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত দুইজনই দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করে আসছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার অগ্রগতি: আটককৃতদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় নিয়মিত মামলা নং-০৭, তারিখ: ২০/০৬/২০২৫ ইং তারিখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর ৩৬(১) এর ১০(খ) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিকে আটককৃতদের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ওসি বাবুল আজাদের প্রতিক্রিয়া:
ওসি বাবুল আজাদ জানান, “পাহাড়তলী থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। জনগণের সহযোগিতায় প্রতিনিয়ত আমরা এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছি।” তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে—সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় পাহাড়তলী থানা বদ্ধপরিকর।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
অভিযানের পর স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকাবাসী এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।