দেশের প্রথম মনোরেল প্রকল্পটি চট্টগ্রামে নির্মাণের জন্য আজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জার্মান-মিশরের যৌথ উদ্যোগ ওরাসকম গ্রুপ এবং আরব কন্ট্রাক্টর গ্রুপের মধ্যে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে। এতে সিটি মেয়র, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
মনোরেল প্রকল্পটি নগরের যানজট নিরসনে একটি আধুনিক ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মনোরেল হলো এক চাকার ট্রেনের আধুনিক রেল ব্যবস্থা, যা মেট্রোরেলের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম খরচে নির্মাণ ও পরিচালনা করা যায়। এটি স্থাপনের জন্য কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং চলাচলের সময় রাস্তার মধ্য দিয়েও লাইন চালানো সম্ভব। সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে মনোরেল স্থাপন ও চালু করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ২০২১ সাল থেকে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর আগে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠান উইটেক ও উইহায় ইন্টারন্যাশনাল ইকোনোমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেটিভ কোম্পানি মনোরেল চালুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এবার জার্মান ও মিশরের যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান ওরাসকম এবং আরব কন্ট্রাক্টর গ্রুপ প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো চট্টগ্রামে ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে, যা প্রকল্পের সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই মনোরেল প্রকল্প চালু হলে চট্টগ্রামের যানজট কমবে এবং শহরের পরিবহন ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও দ্রুতগতির হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, চট্টগ্রামে চলমান অন্যান্য আধুনিক নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে মিলিয়ে এই মনোরেল প্রকল্প শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সার্বিকভাবে, দেশের প্রথম মনোরেল প্রকল্প চট্টগ্রামে বাস্তবায়ন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দেবে।