চট্টগ্রাম শহরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক চেরাগি পাহাড় আজ যেন আরও একটু বেশি আলোকিত হয়ে উঠেছিল। বৈঠক খানা মিলনায়তনে চাটগাইয়া নওজোয়ান এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল এক হৃদয়গ্রাহী আয়োজন বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, গবেষক এবং বহু প্রশংসিত গ্রন্থের প্রণেতা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন স্যারের জন্মদিন উদযাপন।
এই অনুষ্ঠান ছিল কেবলমাত্র একটি জন্মদিন উদযাপন নয়; বরং এটি ছিল একজন মেধাবী, প্রজ্ঞাবান ও সৃজনশীল মনীষার জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন স্যার বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। সাংবাদিকতা, ইতিহাস, গবেষণা এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রেখেছেন অমূল্য অবদান। তাঁর রচনার বৈচিত্র্য, বিশ্লেষণের গভীরতা এবং ভাষার সৌকর্য পাঠকের মননে গেঁথে থাকে দীর্ঘকাল।
আজকের অনুষ্ঠানে একটি ব্যতিক্রমী ও অভাবনীয় ঘটনা সকলকে অভিভূত করে তোলে। অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে, স্যার তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত পরিবেশ ও অনুষ্ঠানের আবহকে কেন্দ্র করে একটি কবিতা রচনা ও আবৃত্তি করেন, যা মুহূর্তেই সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। শব্দের এমন মাধুর্য, উপলব্ধির এমন তীক্ষ্ণতা, আর ছন্দের এমন সাবলীলতায় উপস্থিত সবাই এক ধরনের বিস্ময় ও আবেগে আপ্লুত হন। একজন মননশীল চিন্তাবিদের এই সৃজনশীলতা আমাদের প্রজন্মের জন্য এক বিরল অনুপ্রেরণা।
আমি নিজেও সৌভাগ্যবান, কারণ আমি দীর্ঘদিন ধরে এই গুণী ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানে প্রতিনিয়ত কিছু শেখা, নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং চিন্তার গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ পাওয়া। তিনি আমাদের শুধুমাত্র দিকনির্দেশনা দেন না তিনি আমাদের উদ্দীপনা, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পাঠ শেখান।
স্যারের প্রতিটি লেখনী, প্রতিটি বক্তৃতা যেন এক একটি বোধের আলো, যা আমাদেরকে অন্ধকারে পথ দেখায়। তিনি আমাদের শহরের গর্ব, আমাদের সময়ের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ।
এই বিশেষ দিনে, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন স্যারের জন্মদিনে, আমি তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আরও সমৃদ্ধ সাহিত্যিক-সাংবাদিক জীবনের জন্য আন্তরিক প্রার্থনা জানাই। আমরা চাই তিনি আরও লিখুন, আরও বলুন, আরও আমাদের আলোকিত করুন।
স্যার, আপনার জ্ঞান ও সততা আমাদের পথচলার পাথেয় হয়ে থাকুক। শুভ জন্মদিন।