হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে এনসিপির উত্তাল মশাল মিছিল“এই হামলা কোনো ব্যক্তির উপর নয়—এটা একটি দর্শনের উপর আঘাত”

0
137

মোহাম্মদ ইব্রাহিমঃ
গাজীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার গাড়ির উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল করেছে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক কর্মী অংশ নেন।
সোমবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর ষোলশহর এলাকা থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়ে দুই নম্বর গেইটে গিয়ে শেষ হয়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ। আগুনের লেলিহান শিখায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ, আর সেই আলোয় প্রতিধ্বনিত হয় গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার দাবি।
নেতাদের বক্তব্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সুর
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সাগুপ্তা বুশরা মিশমা। তিনি বলেন, “হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়ায় বারবার এমন হামলা চালানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। আমরা আগেই ঘোষণা দিয়েছি, ‘উই আর শহিদ’। যারা শহিদ হওয়ার মানসিকতা নিয়ে মাঠে থাকে, তাদের দমন করা যায় না।”
তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেন, “শুধু মিছিলের সময় নয়—যখন হামলা হয়, তখনও দায়িত্ব নিয়ে পাশে দাঁড়ান। না হলে এই দেশ আর রাষ্ট্র আপনাদের হাতেও নিরাপদ থাকবে না।”
দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ইমন সৈয়দ তার বক্তব্যে বলেন, “এটা প্রথমবার নয়। এর আগেও হাসনাত এবং আরেক কেন্দ্রীয় নেতা সারজিসের উপর হামলা হয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি, প্রতিকার হয়নি। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে—দুঃশাসনের অন্ধকারে ঢেকে যাবে পুরো বাংলাদেশ।”
জুবাইরুল হাসান আরিফ আরও জোরালো কণ্ঠে বলেন, “আমরা বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কার চাই। সাধারণ মানুষকে ক্ষমতায় আনার যে স্বপ্ন এনসিপি দেখাচ্ছে—তার নেতৃত্বে রয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাই এই হামলা আসলে সেই সংস্কারের ওপরই আঘাত। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রশ্ন করি—আপনারা কী পরিবর্তন চান, নাকি বর্তমান ব্যবস্থারই ধারক-বাহক হয়ে থাকবেন?”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হামলা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর উপর এই হামলা কেবল ব্যক্তিগত রেষারেষির ফল নয়—বরং একটি উদীয়মান দলকে দমন করার দুরভিসন্ধিমূলক প্রচেষ্টা। এনসিপি বর্তমানে যেভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলছে, তা একটি বিরাজমান ক্ষমতাকেন্দ্রিক চক্রের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও অনেকের ধারণা।
সংগঠনের অবস্থান ও বার্তা
চট্টগ্রামের এই মশাল মিছিল দলটির সংগঠিত উপস্থিতি ও দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বক্তারা বলেন, “আমরা রাজপথ ছাড়ব না। হামলা, মামলা বা ভয়ভীতি আমাদের থামাতে পারবে না। জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”
বিক্ষোভ শেষে একটি প্রস্তাব পাস করে দলটি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায়। পাশাপাশি, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here