
অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। অপরাধ দমন থেকে শুরু করে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত কার্যক্রমে এই সাফল্যের ধারা আরও বেগবান হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই ২০২৬ মাসে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে এপিবিএন অর্জন করেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

এ কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত সেবাদানের সমন্বয় ঘটেছে। এপিবিএনের পুলিশ সুপার আসমা বেগম রিটাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও তৎপরতায় বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রমে জনবান্ধব ও সেবামূলক পুলিশিংয়ের চিত্র আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার, মাদক ও অস্ত্র জব্দ, চোরাচালান প্রতিরোধ, আসামি গ্রেপ্তার এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে শত শত মানুষকে সহায়তার মধ্য দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এপিবিএনের সক্রিয়তা ও সক্ষমতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে মোট ৮৪৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে বিকাশ ও নগদ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৯ লাখ ৫৮ হাজার ১৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৩টি সিম, একটি ফেসবুক আইডি, চারটি ফেসবুক আইডি-সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি, তিনটি হোয়াটসঅ্যাপ, একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সাইবার বুলিংয়ের দুটি ঘটনাও সমাধান করা হয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫০৮ জনকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ হাজার ৪২১টি ইয়াবা, ১ দশমিক ১৮ কেজি গাঁজা, ৩২ লিটার মদ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮৫ কার্টন সিগারেট, ৭২টি বিদেশি সিগারেট ও ৭২টি বিয়ার উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১০টি মামলা দায়ের এবং ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি ওয়ানশুটার গান ও ১৬ রাউন্ড গুলি, একটি দেশীয় ধারালো দা এবং একটি লোহার দা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৭৪৪ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের এবং পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ৯১০ কেজি কসমেটিকস, ১৮৭টি শাড়ি ও বিভিন্ন পণ্য, দুটি মোবাইল/ল্যাপটপ, ৩২২ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, দুটি এফডিএমএন কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের অভিযানে ট্রাফিক আইনে ৩৩১টি মামলা করে ৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিএসটিআই ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিভিন্ন অভিযানে আরও ৩১ লাখ ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৬ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ জন ও এজাহারনামীয় ১৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় দুইজন, অপহরণ মামলায় তিনজন এবং ধর্ষণ মামলায় দুইজন আসামি রয়েছে।
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযানের মাধ্যমে ১৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২১টি যানবাহন আটক এবং ৮৪ হাজার টাকা বাংলাদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। জুলাই মাসে এপিবিএনের ৮, ১৪ ও ১৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে মোট ৩১টি জিআর/সিআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জুলাই মাসে ১২ এপিবিএনের অভিযানে বিভিন্ন ব্যাচের জিডির ভিত্তিতে ১৮৫টি হারানো মোবাইল ফোন এবং ভুলক্রমে চলে যাওয়া বিকাশ ও নগদের ৭৩ হাজার ১৯৮ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১৩ এপিবিএনের অভিযানে ৩০০ দশমিক ৭ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৯৯০ টাকা।
এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ এপিবিএনের অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার মূল আসামিসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ এপিবিএনের অভিযানে ৫ হাজার ৮০০টি ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেপ্তার এবং ১৬ এপিবিএনের অভিযানে একটি ওয়ানশুটার বন্দুক ও ১৬ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, দক্ষ অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এপিবিএন যে সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছে, জুলাই মাসের পরিসংখ্যান তারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন।
অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান হাসিব আজিজের নেতৃত্বে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়তায় এপিবিএনের এই কার্যক্রম জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিক সেবা আরও সম্প্রসারণে এপিবিএন অঙ্গীকারবদ্ধ।