চট্টগ্রামে দলীয় ক্লাব ভাঙচুর নিয়ে নতুন বিতর্ক ‘বাদী পক্ষকে হয়রানি করতেই পরিকল্পিত নাটক’—অভিযোগ স্থানীয়দের

By admin
3 Min Read

এবাদুল হোসেন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম সদরঘাট থানাধীন মোহাম্মদ গল্লি এলাকায় একটি দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ভাঙচুরের ঘটনা নয়; বরং চলমান একটি মামলার বাদী পক্ষকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং মানসিকভাবে চাপে ফেলতেই পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই রাতে আবু তালেব লিটনের নির্দেশে মোহাম্মদ কাওসার ওরফে ভুসসা, আক্তার মাঝি, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সাজু, মোহাম্মদ তুফান, শওকতসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোহাম্মদ তুফান জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে বলেন, “আমরা কিছুদিন আগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ঘটনার জের ধরেই কিছু দুষ্কৃতিকারী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে।” অন্যদিকে, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন সাজু, যিনি নিজেকে সাবেক ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন, বলেন, “আমাদের কারও সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। আমাদের দলীয় অফিসে হামলার ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে। আমরা আশা করছি, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা কোনো সংঘাতে জড়াতে চাই না।” স্থানীয়দের ভাষ্য, সাহেবপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা-মামলার হুমকি এবং সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। স্থানীয়দের আরও দাবি, সম্প্রতি একটি এজাহারভুক্ত মামলার ২ নম্বর আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। তাদের ধারণা, এরই ধারাবাহিকতায় বাদী পক্ষকে চাপে ফেলা, জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং মামলার গতিপথ প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাহেবপাড়ার সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে চান। তারা কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখতে চান না। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করবে এবং যার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সচেতন মহলের মতে, কোনো অপরাধের অভিযোগ উঠলে তদন্তের মাধ্যমেই সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত। গুজব, প্রতিশোধ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন সমীচীন নয়, তেমনি তদন্তে অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। এ বিষয়ে সদরঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বক্তব্য, “দলীয় ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী যেন আইনের বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক রয়েছি।”

Share This Article
Leave a Comment