
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়মের। পরিবারের দাবি, সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন (মঙ্গলবার) ভোরে প্রতিদিনের মতো স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে কোচিং সেন্টারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় মরিয়ম। পরে বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বিকেল ৪টার মধ্যে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন থেকে সে নিখোঁজ। টানা ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ মরিয়ম মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর শিকদারের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী ও পরিচিতদের বাড়িসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও মরিয়মের সন্ধান মেলেনি। পরিবারের ছোট ও সবার আদরের মেয়েটিকে না পেয়ে মা-বাবাসহ স্বজনরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মরিয়মের ভগ্নিপতি নাঈম কালবেলাকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে মরিয়মকে কয়েকবার পেছনে ফিরে তাকাতে এবং দ্রুত হাঁটতে দেখা গেছে। এতে তাদের সন্দেহ হয়েছে, হয়তো কেউ তাকে অনুসরণ করছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, প্রেমের সম্পর্ক বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত বিষয় ছিল কি না, সেটিও পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মরিয়মের বান্ধবীরাও জানিয়েছে, কোনো ছেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। মরিয়মের মা পারুল বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে নিয়মিত নামাজ পড়ত এবং সবসময় বোরকা পরে চলাফেরা করত। ও কখনো উচ্ছৃঙ্খল ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেছি, কিন্তু কোনো খবর পাইনি। আমার মেয়ে কখনো নিজের ইচ্ছায় এতদিন ঘরের বাইরে থাকতে পারে না। ও আদৌ বেঁচে আছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।” বাবা জাহাঙ্গীর শিকদার বলেন, “মরিয়মের বয়স প্রায় ১৪ বছর। এই বয়সে সে কখনো মোবাইল ফোনে কারও সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেনি। কোনো দিন এক রাতের জন্যও বাড়ির বাইরে থাকেনি। আমার মেয়েটা বেঁচে আছে কি না, সেটাও জানি না।” এ কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাণী কান্ত শিকদার বলেন, “মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পরিবার জিডি করেছে। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।” মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, “পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। মরিয়মকে উদ্ধারে আমাদের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”