**‘বোমা ফারুক’কে টাকা দিয়েছিলেন নিক্সন চৌধুরী, ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করার চেষ্টা**

0
131

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসেন ওরফে ‘বোমা ফারুক’ (৭২) ১৩ নভেম্বর ঢাকার কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছিলেন। পুলিশ দাবি করেছে, এই কাজে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন সাবেক এমপি ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নিক্সন চৌধুরী। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল এই তথ্য জানান। এর আগে, সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলী এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে এক নারীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাবেলী গোপালপুর এলাকার মৃত মো. জাহিদ হোসেনের ছেলে। ফারুক আগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। বাম হাতের মধ্যমা আঙুল বোমা বিস্ফোরণে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তিনি ‘বোমা ফারুক’ নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক আমেরিকায় অবস্থান করছেন। এরপর ফারুক হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফেসবুকে ৩ নভেম্বর দেওয়া এক পোস্টে ফারুক নিজেকে ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি’ পরিচয় দিয়ে লিখেন, “ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অন্তর্গত সব থানা, পৌরসভা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো আগামী ১৩ তারিখ ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন। ১০-১১-১২ তারিখ স্ব স্ব এলাকায় অবস্থান করুন, মিছিল করুন, বজ্রকণ্ঠে আওয়াজ তুলুন—অবৈধ ট্রাইব্যুনাল মানি না মানবো না, শেখ হাসিনার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। অবৈধ, অগণতান্ত্রিক সরকারের পতন হোক।” সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক হোসেন (৫৩) ও জেলা যুবমহিলা লীগের সদস্য নাসরিন আক্তার (২৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারুককে ১৩ নভেম্বরের কর্মসূচি সফল করতে সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরী ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন, যার ৪ লাখ টাকা ইতিমধ্যে একজনকে দিয়েছেন। কৌশলগত কারণে সেই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি।” ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় ৪টি এবং ঢাকার ডিএমপি-তে ২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোতোয়ালি থানার এসআই আতিকুর রহমান বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত মামলার রায় ১৩ নভেম্বর জানা যাবে। গত ২৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here