
-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ইতিহাসে কিছু কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁদের পদমর্যাদা নয়—বরং দক্ষতা, সাহস, পেশাদারিত্ব ও সততাই তাঁদের পরিচয় গড়ে দেয়। তেমনই একজন কর্মকর্তা হলেন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব উদ্দিন—যিনি চাকরিতে ও বয়সে জুনিয়র হয়েও নিজের যোগ্যতায় সিনিয়র থানার দায়িত্ব অর্জন করেছেন। গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল থানা কোতোয়ালি থানার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সাধারণত এই থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিনিয়র ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা। কিন্তু আফতাব উদ্দিনের ক্ষেত্রে সেই প্রচলিত নিয়ম ভেঙেছে কারণ তাঁর কর্মদক্ষতা, কৌশলগত পুলিশিং ও সফল রেকর্ড। কঠিন সময়ে চান্দগাঁও থানায় সাহসী নেতৃত্ব শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৯ নভেম্বর আফতাব উদ্দিন চট্টগ্রামে যোগ দেন চান্দগাঁও থানার ওসি হিসেবে। সময়টি ছিল পুলিশের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। মনোবল ভেঙে পড়া পুলিশ সদস্যদের আবার সংগঠিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা—সবকিছু একসাথে সামাল দিতে হয়েছে তাঁকে। চান্দগাঁও থানায় তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় দেখা গেছে, পুলিশের মনোবল পুনরুদ্ধার অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ জনবান্ধব ও সাহসী পুলিশিং এর ফলস্বরূপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটে, যা নগর পুলিশের ১৬টি থানার মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সফলতার কারণে প্রতিপক্ষের অপপ্রচার এই সফলতাই তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ায় কিছু নামসর্বস্ব ও অসৎ সাংবাদিক এবং স্বার্থান্বেষী মহলের। তাঁরা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। তবে এই অপপ্রচারের মধ্যেই তাঁর দক্ষতায় আস্থা রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ তাঁকে বদলি করে বন্দর থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেন। বন্দর ও বাকলিয়া থানায় অপরাধ দমনে দৃঢ় ভূমিকা বন্দর থানায় দায়িত্ব পালনকালেও আফতাব উদ্দিন প্রমাণ করেন—তিনি শুধু একজন কঠোর কর্মকর্তা নন, বরং বুদ্ধিদীপ্ত ও মানবিক পুলিশিংয়ের প্রতীক। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর সাফল্য নগর পুলিশের নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এই দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পাঠানো হয় চীনে আন্তর্জাতিক পুলিশ প্রশিক্ষণে—যা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি প্রমাণ করে, তাঁর পুলিশিং কৌশল কেবল স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও প্রশংসিত। পরবর্তীতে বাকলিয়া থানায় দায়িত্ব পেয়ে তিনি সেখানে অবৈধ বালু ব্যবসা সন্ত্রাস চাঁদাবাজি
নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন করে আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। কোতোয়ালি থানায় দায়িত্ব: যোগ্যতার স্বীকৃতি নির্বাচনি বদলির সময় তাঁকে দেওয়া হয় চট্টগ্রামের সদর থানা কোতোয়ালি থানার দায়িত্ব—যা তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জুনিয়র হয়েও এই থানার দায়িত্ব পাওয়া মানেই, তাঁর ওপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের পূর্ণ আস্থা। আজকের বাস্তবতায় ওসি আফতাব উদ্দিন অপরাধীদের কাছে আতঙ্ক সাধারণ মানুষের কাছে ভরসা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে একজন পেশাদার উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। অপপ্রচারেও নত নন তাঁর এই কঠোর ও কার্যকর ভূমিকার কারণে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য ও অপরাধী চক্র আবারও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে—যাতে তাঁর মনোবল ভাঙা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ওসি আফতাব উদ্দিন ইতোমধ্যেই পরীক্ষিত। তিনি পরীক্ষিত সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশ কমিশনারের কাছে আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখনির মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়ার সময় এখন আজ প্রয়োজন, এই দক্ষ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তার পাশে দাঁড়ানো। লিখনির মাধ্যমে, সত্য উচ্চারণের মাধ্যমে তাঁকে উৎসাহিত করা। কারণ, এমন কর্মকর্তারাই পারেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত
নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে জুনিয়র হয়েও সিনিয়রদের ছাপিয়ে যাওয়া ওসি আফতাব উদ্দিন প্রমাণ করেছেন—পদ নয়, কাজই মানুষের পরিচয়।