
স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম মহানগরে অবৈধ বালু ব্যবসা ঠেকাতে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে বাকলিয়া থানার পুরো এলাকায় যখন বালুর সাইড বন্ধের অভিযান চলছে, তখনই শহরের অন্য প্রান্তে কোতোয়ালি থানার ফিরিঙ্গি বাজার এলাকায় উল্টো চিত্র—সেখানে দিন-রাত সমান তালে ঘুরছে ডাম্পার, ট্রাক আর পিকআপ; চলছে বালু ওঠানামার উৎসব।
বাকলিয়ায় কড়া অভিযান, নতুন ব্রিজ এলাকায় সব সাইড বন্ধ গতরাতে বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন সাগসীর নেতৃত্বে নতুন ব্রিজ এলাকা ও আশপাশের ঘাটগুলোতে হঠাৎ অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকটি বালুর সাইডে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ট্রাক–ঘাটে কড়াকড়ি আরোপ হয়, অনেক জায়গায় শ্রমিকরাও পালিয়ে যায়। অভিযানের পর থেকে বাকলিয়া নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দৃশ্যত কোনো বালুর সাইড প্রকাশ্যে চালু নেই। এলাকাবাসীর মতে, “এতোদিন রাতের অন্ধকারে বালু তুলত, এখন পুলিশ আসায় অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।” কিন্তু সমস্যা হচ্ছে—একদিকে এই অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হলেও, অন্যদিকে একই শহরের অন্য এলাকায় এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ফিরিঙ্গি বাজারে বালুর সোনার হাট অভিযানের পরেই চোখ পড়ে কোতোয়ালি ফিরিঙ্গি বাজারের দিকে। আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য বলছে—এলাকাটিতে এখন প্রায় ১০টির মতো বালুর সাইড দিনরাত অবিরামভাবে চলছে।
ঘাটে ঘাটে সারিবদ্ধ ট্রাক, বালু তোলার মেশিনের শব্দ, শ্রমিকদের অবিরাম ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে যেন বালুর “সোনার হাট”।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—
“বাকলিয়াতে এখন পুলিশি কড়াকড়ি, তাই সবাই ফিরিঙ্গি বাজার আর কর্ণফুলী থানার এলাকায় বেল্লা পড়াচ্ছে। এখানে যেন আলাদা আইন।”
‘বালুর রাজা’ রাজা মিয়া, পেছনে পলাতক নেতা, সামনে বিএনপি নেতাদের দাপট ফিরিঙ্গি বাজারের অধিকাংশ বড় বালুর সাইডের মালিক হিসেবে যাঁর নাম ঘুরে–ফিরে আসছে তিনি হলেন— বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বোয়ালখালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজা মিয়া। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত “বালুর রাজা” নামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কর্ণফুলী ও আশপাশের এলাকায় বালুর ব্যবসার প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় তিনি পলাতক থাকলেও, থেমে নেই তার বালুর সাম্রাজ্য।
আমাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে— রাজা মিয়া সরাসরি মাঠে না থাকলেও, তার হয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের একটি অংশ সরাসরি বালুর সাইড পরিচালনা করছে। অর্থাৎ, এক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যবসা এখন চালাচ্ছে বিরোধী দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা—যারা নিজেদের রাজনৈতিক বলয় ও সন্ত্রাসী প্রভাব কাজে লাগিয়ে পুরো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে।
একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী গোপনীয়তার শর্তে বলেন—
“রাজনীতির নাম ব্যবহার করে যাঁরা বালুর ব্যবসা করেন, তাঁরা দলকে না, শুধু টাকা আর প্রভাবকেই চিনেন। এখানকার বালুর সাইডগুলোর পেছনে আওয়ামী লীগ–বিএনপি, দুই দলেরই কিছু দুধভাতে দুধভাজা নেতা জড়িত।” সংগঠিত সন্ত্রাসী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় বালু সিন্ডিকেট কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ই নয়, ফিরিঙ্গি বাজারের বালুর সাইডগুলো পরিচালনায় রয়েছে একটি সংগঠিত সন্ত্রাসী চক্র। আমাদের সংবাদের অনুসন্ধানে জানা গেছে এই চক্রটি পুলিশকে ধোঁকা দিয়ে আসছে।