চট্টগ্রামে ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম হত্যা রহস্য উন্মোচন: ছয়জন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার

By admin
3 Min Read

সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার-এর নির্দেশনায় নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, পুলিশি টহল, বিশেষ অভিযান এবং রাত্রিকালীন সাঁড়াশি তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ খোকন ওরফে লেংড়া খোকন ওরফে আমান উল্লাহ, মো. মারুফ, জিয়াউর রহমান, মো. সাকলাইন হোসেন, মো. সাকিব , শাহেদ । হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্তের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার-এর সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ রবিউল আলম খান,  হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো: তারেক আজিজ, হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুর কাদের ভূঁইয়া সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য অর্জন করে।

উল্লেখ্য যে, গত ৭ অক্টোবর ২০২৫ সকালে ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম তার প্রাইভেটকারে করে হামিম এগ্রো ফার্মে যান। বিকেলে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে মোটরসাইকেলযোগে আসা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তার গাড়ির সামনে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও পরে তিনি মারা যান। ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও হাটহাজারী থানা পুলিশ প্রাথমিক তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে।

ধারাবাহিক অভিযানে গ্রেপ্তার ও উদ্ধার : ৩১ অক্টোবর: রাউজান থানার বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে মো. আব্দুল্লাহ খোকন ওরফে লেংড়া খোকন গ্রেপ্তার হন। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২ নভেম্বর: খোকনের দেওয়া তথ্যে রাউজানের নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফ গ্রেপ্তার হন। তার জবানবন্দিতে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান জানা যায়, যা ছিল অপর আসামি মো. সাকলাইন হোসেনের হেফাজতে। ৪ নভেম্বর: বিশেষ অভিযানে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে একটি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ৯ নভেম্বর: আদালতের অনুমতিক্রমে রিমান্ডে থাকা আসামিদের তথ্যে রাউজানের নোয়াপাড়া চৌধুরীহাটের আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪টি বিদেশি পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১টি চায়না রাইফেল, ১টি শর্টগান, ৪৯ রাউন্ড রাইফেল গুলি, ১৭ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ রাউন্ড পিস্তল গুলি, ৭টি ম্যাগজিন, ২টি রামদা, ১টি রকেট ফ্লেয়ার, ৫০ পিস ইয়াবা, আনুমানিক ২৫০ গ্রাম গাঁজা ও ৯৬,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, রাউজান থানাধীন বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।  চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন, টহল বৃদ্ধি, বিশেষ অভিযান ও রাতের সাঁড়াশি তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন জানিয়েছে, চট্টগ্রাম জেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Share This Article
Leave a Comment