চট্টগ্রাম-১২ ও ১৩ বিএনপি দলীয় প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি

By admin
6 Min Read

 

নজরুল ইসলাম, পটিয়া(চট্টগ্রাম)॥
চট্টগ্রাম-১২ (পটিযা) সংসদীয় আসনে এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজামকে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তৃণমূল নেতা কর্মীদের দাবি চট্টগ্রাম-১২ পটিয়ায় এনামুল হক এনাম এস আলম গ্রুপের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা থাকার পাশাপাশি গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন শিল্পকারখানায় চাঁদাবাজি, জবর দখল, অবৈধ বালু মহাল দখলের ঘটনায় পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ যার বিএনপির দলীয়ভাবে বদনাম হয়েছে বহিস্কৃত এমন এক ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ নেতা কর্মী ও পটিয়াবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজামকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিগত ১৭ বছর এলাকার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এমন কি বিএনপির দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে যারা জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার নেতা কর্মীদের ফোন পর্যন্ত রিসিভ করেনি। আনোয়ারাবাসী এবং দলীয় নেতা কর্মীরা তাকে প্রত্যাখান করে নতুন প্রার্থী ঘোষণার জন্য বিএনপির হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানান। গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত প্রার্থী ঘোষণার পরপরই চট্টগ্রাম-১২ আসনে এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজামকে নিয়ে বিগত সময়ে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে এ দুই জনের মনোনয়ন পরিবর্তন না করলে ভোট সেন্টার না যাওয়ার ঘোষণা দেন। অনেকের মতে পটিয়ার মত ৮৫% শিক্ষিত মানুষের এলাকায় অশিক্ষিত অসাংগঠনিক এনামুল হক এনামের মনোনয়ন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এনামুল হক এনামের প্রসঙ্গে ফেইসবুকে মীর জাহান নামের একজন লিখেছেন, ‘এস আলমের গাড়ি কান্ডে বহিষ্কৃত নেতা এনামকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। এমন সিদ্ধান্তে হাসছে মানুষ, কাঁদছে তৃণমূল।’ আরেকজন, আবদু ওয়াহিদ মুরাদ মন্তব্য করেন, ‘বিতর্কিত নেতাদের টাকা আর প্রভাবই কি এখন বিএনপির যোগ্যতার মাপকাঠি?’ । মুহাম্মদ মাসুম ওই পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ‘আবিষ্কারের পর বহিষ্কার।’ খোয়াজি মুস্তফা মন্তব্য করেছেন,এখন তো তারেক রহমান সাহেব সত্যিকার অর্থেই দুর্নীতিবাজদের লালন করছেন।’ মীর জাহানের পোস্টকে ঘিরে চার হাজারের বেশি মানুষ মন্তব্য করেছেন, যাদের অধিকাংশই দল ও তারেক রহমানকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি শিল্পগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচিত এনামুল হক এনামের বিরুদ্ধে অতীতে দলবিরোধী কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় মীর গ্রুপের মালিকানাধীন একটি গুদাম থেকে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির এনামসহ দুই নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে দুই মাস পর সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এনামুল হকের ঘনিষ্ঠজন ও উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়েও পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ চৌধুরী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে বিভাজন বাড়াবে এবং নির্বাচনে দলের ক্ষতি ডেকে আনবে। এক সিনিয়র নেতা বলেন, কেন্দ্র বলে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা উল্টো। এমন সিদ্ধান্তে দলের আগামী নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে এনামুল হক এনাম ছাড়াও সর্বজন গ্রহনযোগ্য নেতাদের মধ্যে সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদসহ যারা মাঠে ময়দানে স্বক্রিয় জনপ্রিয় জনবান্ধব কর্মী বান্দব নেতাও মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া এনামুল হক এনাম বলেন, যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছে তাদের অনুসারী রয়েছে স্বভাবিক আমি মনোনয়ন পাওয়াতে তারা সহজে মেনে নিতে পারছে না, আমি নিজ থেকে যারা মনোনয়ন চেয়েছিল সবার কাছে গিয়ে মাঠে নামানোর চেষ্টা করব, আমার কোন ভুল থাকলে তারা আমাকে সংশোধন করি দিলে আমি উপকৃত হবে, অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেনি।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম ছাড়াও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বিগত ১৭ বছর দলীয় নেতা কর্মীদের অভিভাবক হয়ে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নিজেরা মঠে ময়দানে স্বক্রিয় ভূমিকা থেকে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে, আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী ও দলীয় নেতা কর্মীরা লায়ন হেলাল উদ্দীনকে বিগত ১৭ বছর ধরে যোগ্য অভিভাবক হিসেবে পেয়েছে বলে জানায়। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এলাকায় সরব হয়েছেন সরওয়ার জামাল নিজাম। তাই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে যিনি মাঠে ছিলেন তাকে দল মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু মনোনয়ন তালিকায় হলো উল্টো। আনোয়ারায় বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের প্রসঙ্গে আনোয়ারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব গাজী ফোরকান বলেন, দল থেকে বলা হয়েছে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকা তৃণমূলের নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া। এমন কথা থাকলেও আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে মনোনয়ন দিয়েছেন দলের দুঃসময়ে মাঠে না থাকা ব্যক্তিকে। যা তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে উনার মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটবে।আনোয়ারা উপজেলা যুবদল নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রানা বলেন, আনোয়ারার নেতা কর্মীরা সরওয়ার জামাল নিজামকে গ্রহণ করেনি করবেও না, উনার মত মৌসুমী মানুষ যদি আনোয়ারা মনোনয়ন পন সাধারণ নেতা কর্মীদের অপমান করার সামিল। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৩ সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, দল আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছি, সবার উচিত বিএনপির জন্য কাজ করা ধানের শীষের জন্য কাজ করা আমাকে ব্যক্তি হিসেবে সবাই পছন্দ না করতে পারনে তবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে আমার বাইরে যাওয়ার সুযোগ কোন নেতা কর্মীর নেই।

Share This Article
Leave a Comment