
মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বুধপুরা এলাকায় বিএনপি নেতা ও ৮নং কাশিয়াইশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (আদালতে বিচারাধীন)মোঃ কায়েস-এর ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা নং ১৬, তাং ১৯/১০/২০২৫ ইং-এ মামলা দায়ের হয়েছে। এই হামলা কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, বরং এটি একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য কায়েসকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করা। ঘটনার বিবরণ- বাদী সুমন (৩৬), পিতা মোঃ ইউসুফ, মাতা হোসনে আরা বেগম, সাং কালু মেম্বারের বাড়ি, বুধপুরা, পটিয়া— থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগে জানান, ১৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে তিনি ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ— গাজী মোহাম্মদ ওহিদুল আলম, রেজাউল করিম, মোঃ কাইছ এবং মোঃ আলী আহম্মদ— চট্টগ্রাম শহর থেকে হার্ড জীপ হোন্ডা মোটর (রেজি: চট্টমেট্রো-ঘ ১১-২৭১১, রঙ: নীল) যোগে বুধপুরা বাজারে “৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত কর্মসূচি” প্রচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।
তারা ফকিরা মসজিদ বাজারের পূর্বে খলিল মীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংলগ্ন রাস্তার ২০০ গজ পূর্বে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১নং আসামী মোঃ আবুল কাশেম (৬২) ও তার সহযোগী মোঃ সোহেল ওরফে ট্যাটু সোহেল (২৮) এবং অজ্ঞাতনামা ৯/১০ জন সন্ত্রাসী একটি কালো জীপ, দুটি সিএনজি ও দুটি মোটরসাইকেলযোগে এসে তাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা হাতে ছিল— কিরিচ, রামদা, লোহার রড, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, ইট-পাটকেলের বস্তা, এমনকি রাইফেল ও কাটা বন্দুকও। তারা কায়েস ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, এবং গাড়ি ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হামলাকারীরা “বিএনপি করলে মরতে হবে” বলে হুমকি দেয়। পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা উক্ত আসামী আবুল কাশেম হলেন ৮ নং কাশিয়াইশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, যিনি বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে তথাকথিত ক্ষমতার প্রভাবে এবং তার মামা কেডিএস গ্রুপের খলিলের ছত্রছায়ায় নির্বাচিত হন। তখনকার সময়কার হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর প্রভাব ব্যবহার করে কায়েসকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়, যদিও জনগণের ভোটে কায়েস প্রকৃতপক্ষে বিজয়ী ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই কাসেম ও তার অনুসারীরা কায়েসকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ২০২২ সালে কাসেম তার আপন ভাইকে হত্যা করেন বলে জানাযায়। সেই হত্যার মামলায় কাসেম চেয়ারম্যান মিথ্যা ভাবে কায়েসকে আসামি করেন, ফলে কায়েস দীর্ঘদিন বিনা দোষে কারাভোগ করেন। পরে পিবিআই তদন্তে কায়েস সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং আদালত তাকে চার্জশিটে অব্যাহতি দেন। কিন্তু কাসেম চেয়ারম্যান সেই চার্জশিটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে মামলাটি ঝুলিয়ে রাখেন, যাতে কায়েস ন্যায়বিচার না পান। কারাগারে হত্যার ষড়যন্ত্র-
বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কায়েস কারাগারে আটক থাকাকালীন সময়ে কাসেম চেয়ারম্যান তার মামাত ভাই কেডিএস খলিলের ছেলে টিটুকে (বর্তমানে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত) দিয়ে একাধিকবার কায়েসকে হত্যার চেষ্টা করেন। টিটু বর্তমানে চট্টগ্রাম কারাগারে “অঘোষিত সম্রাট” হিসেবে পরিচিত, যার নির্দেশেই কারাগারে নানা অপকর্ম চলে।
কারাগারে কায়েসের উপর একাধিকবার হামলা চালানোর চেষ্টার প্রমাণও তদন্তে উঠে আসে। বিএনপি নেতা কায়েসের রাজনৈতিক অবস্থান- মোঃ কায়েস দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি দুই দফায় ধানের শীষ প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং জনগণের ভোটে জয়ী হন। তিনি দল ও এলাকার উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। কায়েসের সমর্থকরা অভিযোগ করেন, এখনো কাসেম চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা কায়েসকে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সাম্প্রতিক এই হামলা তারই ধারাবাহিকতা। মামলা দায়ের ও প্রশাসনের ভূমিকা- এই হামলার পর পটিয়া থানায় দ্রুত মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং ১৬, তাং ১৯/১০/২০২৫ ইং)। সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ গ্রুপের আওতাধীন দৈনিক টুরিস্ট, চট্টল চিত্র, সময়ের আলো, ভোরের আওয়াজ এবং কথা টিভি-তে সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর প্রশাসন অবশেষে মামলা নিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিএনপি নেতারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন— এই ঘটনায় জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামে নিরীহ মানুষদের আর রক্ত দিতে না হয়। এলাকাবাসীর বক্তব্য -বুধপুরা এলাকার প্রবীণ সমাজসেবক গাজী মোহাম্মদ ওহিদুল আলম বলেন—“কায়েস ভাই একজন সৎ মানুষ। তাঁর মতো নেতা এলাকায় শান্তি ও উন্নয়ন এনেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।” স্থানীয় নারী সংগঠক হোসনে আরা বেগম বলেন— “আমরা কায়েস ভাইয়ের সঙ্গে আছি। সরকার পরিবর্তনের পরও যারা ফ্যাসিস্ট মানসিকতা ধরে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধেপ্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা দরকার।” এই হামলা কেবল কায়েসের উপর নয়, বরং গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের এক নৃশংস দৃষ্টান্ত। এলাকাবাসী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছে— “আবুল কাসেম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কায়েসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”