মোহাম্মদ ইব্রাহিম
গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এনসিপি এবং তাদের সমর্থক সংগঠনগুলো। বুধবার বিকেলে নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেইট এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভকারীরা মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— “গোপালগঞ্জে হামলা কেন, প্রশাসনের জবাব চাই”, “আওয়ামী লীগের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও”, “আওয়ামী লীগের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না”, “ইনিকিলাব জিন্দাবাদ, মুজিববাদ মুর্দাবাদ”।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছে। প্রশাসন নীরব থেকেছে, যা নিন্দনীয়।”
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান আলী বলেন, “এই হামলা আসলে জুলাই বিপ্লবের সৈনিকদের ওপর হামলা। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। গোপালগঞ্জের পরিণতি হবে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের মতো।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ এনসিপির সমর্থক অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে গোপালগঞ্জে এনসিপির ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে কুমিল্লা-সিলেট এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির কুমিল্লা অঞ্চলের নেতাকর্মীরা। ঢাকার শাহবাগ মোড়েও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।
ঘটনার পর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে।