“চান্দগাঁওয়ের তথাকথিত সাংবাদিক হান্নান রহিম তালুকদার পুলিশের জালে —

5 Min Read

মো.কামল উদ্দিনঃ
অবশেষে আইনের কঠোর হাতে ধরা
চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলে চলমান পুলিশের বিশেষ অভিযানের সময় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কথিত সংবাদকর্মী হান্নান রহিম তালুকদারকে আটক করেছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। সিএমপি’র এ অভিযানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে— মিথ্যা সাংবাদিকতার পরিচয়ে অপকর্ম চালানো, হোটেলের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং পুলিশের অভিযানের গোপন তথ্য ফাঁস করে অপারেশনে বাধা প্রদান।ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একদিকে হাতে মাইক্রোফোন ধরে সংবাদ সংগ্রহের ভান করছেন হান্নান রহিম, অপরদিকে চান্দগাঁও থানায় দুই পুলিশ সদস্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন আটক অবস্থায়। এটি চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে যে, যারা সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও দায়িত্বকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে নিজের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে এখন প্রশাসন কঠোর হচ্ছে। আজকের এই ঘটনাটির পর চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতার উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে মোবাইলে জানান যে, “এই ঘটনার বিষয়ে থানায় বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” ওসি সাহেব আরও বলেন, “আমরা কাউকে ছাড় দেব না— সে সাংবাদিক পরিচয়ে থাক বা অন্য কোনো ছদ্মবেশে।” প্রসঙ্গত, এই হান্নান রহিম তালুকদার বিভিন্ন সময় স্থানীয় গণমাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়ে সংবাদ পরিবেশনের নামে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে তার নিয়মিত যাতায়াত এবং অসংখ্য অভিযোগ থানার নথিতে ইতিমধ্যে স্থান পেয়েছে। আজকের অভিযানে তাকে হাতেনাতে আটক করে পুরো চক্রের কৌশল ভেঙে দিয়েছে চান্দগাঁও থানা পুলিশ।
এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রশাসন চাইলে এবং সত্যিকার অর্থে দায়িত্ব পালনে অটল থাকলে অপরাধী যতই ছদ্মবেশ ধারণ করুক না কেন, শেষ রক্ষা হয় না। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি আশাবাদী বার্তা পৌঁছেছে— সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা আর সহ্য করা হবে না।
একজন কলম সৈনিক হিসেবে আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকেছি। এই লেখাটির মাধ্যমেও আমি সমাজকে সতর্ক ও প্রশাসনকে উৎসাহিত করতে চেয়েছি। চাইবো, এ ধরনের ভুয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ যেন অব্যাহত থাকে, যাতে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা ও জনবিশ্বাস অক্ষুণ্ন থাকে। সাংবাদিকতা পেশাকে রক্ষা করতে হবে সাংবাদিকদেরই। আর এই প্রতিরক্ষা শুরু হোক এই ধরনের ভণ্ডদের মুখোশ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে।
আপনার আজকের উদ্যোগ ও সাহসী অভিযানের জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশ বিশেষ করে ওসি আফতার উদ্দিন সাহেবকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই অভিযান হোক ভবিষ্যতের জন্য এক শক্ত বার্তা। ঘটনার সংলিপ্ত বিবরণঃ চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের একটি গেস্ট হাউসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হান্নান রহিম তালুকদার নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে “দৈনিক চট্টগ্রাম সংবাদ”-এর সম্পাদক এবং “সিএসটিভি২৪”-এর চেয়ারম্যান দাবি করেন, ভিডিও ক্যামেরা হাতে গেস্ট হাউসের কক্ষে কক্ষে ঢুকে দম্পতিদের জেরা করেন, তাদের বিবাহের প্রমাণ চান এবং রেজিস্টার খাতা দেখে তথাকথিত তদন্ত পরিচালনা করেন। এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকতার আদর্শ ও নৈতিকতার পরিপন্থী। এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য বলেও দাবি করেছেন, অথচ অনুসন্ধানে জানা গেছে তিনি প্রেস ক্লাবের কেউ নন, বরং বিএনপির যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রশ্ন ওঠে—একজন সাংবাদিক কি পুলিশের ভূমিকা পালন করতে পারে? গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে এমন ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ সাংবাদিকতার মধ্যে পড়ে না, বরং তা হয়রানি ও আইনের অপব্যবহার।
বর্তমানে কিছু ব্যক্তি সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, দেহব্যবসা পরিচালনা, মাদক ব্যবসা এমনকি হোটেল দখলের মতো অপরাধে জড়িত। তারা প্রেস লেখা ব্যাজ ব্যবহার করে ভয় দেখায়, ভিডিও ধারণ করে তথ্য ফাঁসের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করে। পুলিশের কিছু অসাধু সদস্যের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ধরনের ছদ্মবেশী সাংবাদিকরা নিজেদের প্রেস ক্লাবের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন করছে। প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উচিত কঠোরভাবে সদস্য যাচাই করা এবং ভুয়া সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। সাংবাদিকতা কোনো ক্ষমতার লাইসেন্স নয়; এটি দায়িত্বশীলতা, বিবেক এবং নৈতিকতার পেশা। সমাজে এমন এক শ্রেণির দানব তৈরি হয়েছে যারা সাংবাদিকতার মুখোশ পরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। এদের প্রতিরোধ করতে সাংবাদিক সমাজ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সচেতন নাগরিকদের একসঙ্গে এগিয়ে আসা জরুরি। চট্টগ্রামের এই গেস্ট হাউস কাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাংবাদিকতার পবিত্রতা রক্ষা করতে এখনই সময় সোচ্চার হওয়ার। গুটিকয়েক ভুয়া সাংবাদিকের কারণে একটি মহৎ পেশা কলুষিত হতে দেওয়া যায় না।

Share This Article
Leave a Comment