মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নাম নয়, এটি একটি বিশ্বাস, একটি সংগ্রামের নাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এই রাজনৈতিক সংগঠনের মূল শক্তি হলো তৃণমূলের ত্যাগী কর্মী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতৃবৃন্দ। এই অপ্রতিরোধ্য জাতীয়তাবাদী ধারার এক উজ্জ্বল নাম, এক পরীক্ষিত নেতার নাম—আব্দুল গফুর মেম্বার। চারবার নির্বাচিত ইউপি সদস্য, তিনবার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, একাধারে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য—এই বিস্তৃত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে গফুর মেম্বার প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু একজন জনপ্রতিনিধি নন, বরং তৃণমূলের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একজন প্রকৃত জননেতা।
জিয়ার আদর্শে উদ্বুদ্ধ রাজনীতির সূচনা
১৯৭৯ সাল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গঠিত বিএনপি তখন দেশের মানুষের আশার বাতিঘর। ঠিক এই সময়েই তরুণ আব্দুল গফুর শহীদ জিয়ার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে যুক্ত হন বিএনপির রাজনীতিতে। তিনি তখন বুঝেছিলেন—এই দলই দেশের প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আশ্রয়। সেই উপলব্ধি থেকে শুরু হয়েছিল তার নিরন্তর সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের রাজপথ।
তার রাজনীতি ছিল আদর্শকেন্দ্রিক, নেতা-কর্মীকেন্দ্রিক নয়। তিনি ব্যক্তি পদ-পদবির মোহে নয়, বরং শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখেই রাজনীতি করে এসেছেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার মাধ্যমে, এবং আজও সে বন্ধন অবিচ্ছিন্ন।
ইউনিয়ন পর্যায়ে অসাধারণ নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত
চর লক্ষ্য ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে টানা তিনবার দায়িত্ব পালন করেছেন গফুর মেম্বার। তার নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপি ছিল সংগঠিত, সুসংহত এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। সেই সময় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, দলীয় মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে টানা চারবার দায়িত্ব পালন করে তিনি যে জনসম্পৃক্ততা ও সেবা-মনস্কতা প্রদর্শন করেছেন, তা আজও মানুষের মুখে মুখে।
বিপদের সময় দলের পাশে থাকা একজন বাস্তবিক সৈনিক
সাধারণত দেখা যায়, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা বিপদের সময় ছায়ার মতো গা ঢাকা দেন। কিন্তু গফুর মেম্বার ছিলেন তার উল্টো চরিত্রের প্রতীক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাকে একাধিক মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। অন্তত ১০টি ভুয়া মামলা তার নামে দায়ের করা হয়েছিল শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে। কখনো কারাগার, কখনো পলাতক, কখনো হয়রানির শিকার—তবু দল থেকে সরে যাননি, ভেঙে পড়েননি। তিনি কখনো দলের বিরুদ্ধে, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটিবারও আপোষ করেননি।
এই প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, সাধারণ নেতা-কর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন। তিনি ছিলেন কর্ণফুলী থানার সেই মুখ, যার উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন অন্যায়ভাবে বন্দি ছিলেন, তখন আন্দোলন জোরদার করতে গফুর মেম্বার ছিলেন রাজপথের ফ্রন্টলাইনে। তিনি শুধু নিজে মাঠে নামেননি, বরং কর্ণফুলী ও আশপাশের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করেছেন। তার উদ্দীপনা ও সাহসিকতা অনেককে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় করেছে।
তারেক রহমানের ৩১ দফা রূপরেখার বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকায়
বর্তমান যুগে রাজনৈতিক সংগঠনের পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নে তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই রূপরেখাকে সামনে রেখে যে সকল নেতা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, তাদের মধ্যে গফুর মেম্বার অন্যতম। তিনি থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব দফা বাস্তবায়নের কর্মসূচি পরিচালনা করছেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী
গফুর মেম্বারের নাম কর্ণফুলী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। তিনি কখনো দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নয়, বরং জনগণের ভালোবাসায় জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তার ব্যক্তিত্ব, সততা ও নেতৃত্বগুণ তাকে নেতা হিসেবে নয়, একজন অভিভাবক হিসেবে পরিচিত করেছে।
আজ কর্ণফুলী থানা বিএনপির নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যখন পুনর্গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে, তখন স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একটাই দাবি—গফুর মেম্বারকে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দিতে হবে।
সময় এসেছে ত্যাগী ও নিবেদিত নেতার মূল্যায়নের
দল তখনই শক্তিশালী হয়, যখন ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং সংগ্রামী নেতাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়। কর্ণফুলী থানা বিএনপির নেতৃত্বে গফুর মেম্বারের মতো নিবেদিত প্রাণ নেতার আসন নিশ্চিত করা শুধু ব্যক্তি গফুর মেম্বারের প্রতি ন্যায্যতা নয়—এটি হবে তৃণমূল বিএনপির হাজার হাজার কর্মীর দীর্ঘদিনের আত্মত্যাগের স্বীকৃতি।
এখন দলীয় পুনর্গঠনের সময়। এখন প্রয়োজন অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য, জনসম্পৃক্ত, দলপ্রেমিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব। এসব গুণের এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে আব্দুল গফুর মেম্বারের মাঝে। তাকে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে সংগঠন যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি দক্ষিণ জেলা বিএনপিরও ভিত্তি আরও দৃঢ় হবে।
উপসংহার: সময়ের দাবি—গফুর মেম্বারকে নেতৃত্বে আনা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ কঠিন সময় অতিক্রম করছে। চারদিকে ষড়যন্ত্র, দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা চলছেই। এই সময় সংগঠনকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হলে প্রয়োজন পরীক্ষিত সৈনিকদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া।
আব্দুল গফুর মেম্বার হলেন সেই নেতা—যিনি কখনো পিছু হটেননি, যিনি দলকে নিজের রক্তে সিঞ্চিত করেছেন, যিনি আদর্শের পতাকা কখনো নামাননি। কর্ণফুলী থানা বিএনপির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে তার নিয়োগ হবে সময়োপযোগী, যৌক্তিক এবং ন্যায্য সিদ্ধান্ত।
এটাই হবে শহীদ জিয়ার আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, এবং তারেক রহমানের রূপরেখার প্রতি আনুগত্যের বাস্তব প্রকাশ।
তৃণমূল চায়, কর্ণফুলী বিএনপির নেতৃত্বে গফুর মেম্বারকে। দল এখন শুনুক সেই তৃণমূলের কথা।