মাওলানা রইস উদ্দীন হত্যার বিচার দাবিতে ছাত্রসেনার সর্বাত্মক অবরোধে উত্তাল সারাদেশপুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হামলায় শতাধিক আহত, গ্রেপ্তার ৩৭; কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভের ডাক”

0
133

রাইসা আকতারঃ
চট্টগ্রাম, ৫ মে:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা, খ্যাতিমান আলেমে দ্বীন ও বক্তা মাওলানা রইস উদ্দীন শাহাদতের প্রতিবাদে আজ ছাত্রসেনা আহূত অবরোধ কর্মসূচিতে সারাদেশজুড়ে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘোষিত এই অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও রেলপথে কার্যত যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
ছাত্রসেনা অভিযোগ করে, শান্তিপূর্ণ ও পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণরত তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে হামলা চালায়। এতে এখন পর্যন্ত শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং সারা দেশে অন্তত ৩৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের দলীয় কার্যালয়ে বিকাল ৪টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ছাত্রসেনা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাহেদুল আলম। উপস্থিত ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মিডিয়া সেলের প্রধান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
গাজীপুরে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, গাজীপুরে সংগঠিত মাওলানা রইস উদ্দীনের হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ও রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়ে সংঘটিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুন্নি আন্দোলনের একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন, যিনি তরুণ প্রজন্মের ধর্মীয় ও নৈতিক জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর মত একজন আলেমকে প্রকাশ্যে হত্যার পর প্রশাসনের নিরবতা দেশবাসীকে শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ করেছে।
সড়ক, রেল ও নৌপথে অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কুমিল্লা-নোয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধের আওতায় ছিল। সংগঠনের নেতারা জানান, সড়ক পথ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ও নৌপথেও প্রতীকী অবরোধ পালন করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক না ছড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি না হয়। কিন্তু তারপরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
বক্তারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, ফেনী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও চট্টগ্রামের মুরাদপুর ও অক্সিজেন মোড়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়। একাধিক কর্মীর চোখে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন কর্মীদের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও আক্রমণ
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা এলাকাতেও পুলিশী হয়রানি চালানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুন্নি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের ওপর আঘাত।
ছাত্রসেনার তিন দফা দাবি
১. শহীদ মাওলানা রইস উদ্দীন হত্যার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার,
২. ছাত্রসেনার কর্মসূচিতে হামলাকারী পুলিশ সদস্য ও সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা,
৩. গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রসেনা নেতাকর্মীদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি।
আগামী কর্মসূচি ঘোষণা
ছাত্রসেনার পক্ষ থেকে আগামীকাল ৬ মে মঙ্গলবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। একই দিন বিকাল ৩টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হবে কালো পতাকা মিছিল। নেতারা এই কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান
সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে সংগঠনের নেতারা দেশের গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংস্থা, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান— যেন তারা এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
এই প্রতিবেদনটি আপনি চাইলে প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন নিউজ পোর্টাল,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here