প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরে প্রশাসনের সমন্বিত দায়িত্ব পালন নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা প্রশংসনীয়

0
37

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, দুর্গোৎসব ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত প্রস্তুতির মূল্যায়ন-
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দায়িত্ব পালন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত কর্মসূচিকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে ছিল বহুমাত্রিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ছিল এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
একজন সাংবাদিক হিসেবে এ সফরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করতে গিয়ে মনে হয়েছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তসংস্থাগত সমন্বয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ধরনের আয়োজনের পেছনে শুধু দৃশ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন দপ্তরের পারস্পরিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে সমন্বিত উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। বাসসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের তথ্য উল্লেখ করা হয়। এসব প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর ভূমিকা নিরাপত্তাব্যবস্থার সামগ্রিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় প্রতিটি বাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যপরিধি আলাদা। তাই এ ধরনের আয়োজনের কার্যকারিতা নির্ভর করে দায়িত্বের যথাযথ বণ্টন, নির্দেশনা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময় এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত সমন্বয়ের ওপর। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সেই বৃহত্তর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা
নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কর্মসূচিস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের চলাচল ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নগর পুলিশের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নেতৃত্বে নগর পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি এ সফরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের সামনে একদিকে থাকে নিরাপত্তার কঠোরতা বজায় রাখার দায়িত্ব, অন্যদিকে থাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পেশাদার, সংযত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা।
বিশেষ করে জনসমাগমস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের চলাচলে সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা পুলিশের দায়িত্ব পালনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। নগরবাসীর নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব বিষয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় এসএসএফের বিশেষায়িত দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ এবং কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ে সতর্কতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের বাহিনীর পেশাদারিত্ব অপরিহার্য।
একইভাবে এসআরবির মতো বিশেষায়িত বাহিনীর প্রস্তুতি সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের প্রস্তুতি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কতা ও পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে কোনো বাহিনীর দায়িত্ব পালনের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব, বাস্তব কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় প্রশাসনের সমন্বয়
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সফর পরিচালনায় বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে যোগাযোগ, কর্মসূচির প্রশাসনিক প্রস্তুতি, স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা সামগ্রিক আয়োজনকে কার্যকর করতে সহায়তা করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিমূলক সভা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য থাকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেন নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহানগরে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বন্দরনগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণপরিবহন এবং ধর্মীয় উৎসবের পরিবেশও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে প্রশাসনের প্রস্তুতি ও আন্তদপ্তর সহযোগিতার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
গোয়েন্দা নজরদারি ও আগাম সতর্কতা
নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগাম তথ্য সংগ্রহ, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। প্রকাশিত সংবাদে সাদাপোশাকের সদস্যদের নজরদারি ও গুজব প্রতিরোধে সতর্কতার কথা উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও ধর্মীয় উৎসবের সময়ে দায়িত্বশীল তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জননিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তা যাচাই করা এবং জনসাধারণকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর নির্ভর করতে উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
গুজব প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বও রয়েছে। যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করা, উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তব্য প্রচারে সতর্ক থাকা এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য তুলে ধরা সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনসাধারণের চলাচল
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তার পাশাপাশি নগরের যান চলাচল ব্যবস্থাপনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণকারী এবং জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনের চলাচল যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন হয়।
এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে নাগরিক ভোগান্তি কমানোর বিষয়টি সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হয়।
সাংবাদিক হিসেবে আমার মূল্যায়নে, নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রেখেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। ভবিষ্যতে আগাম গণবিজ্ঞপ্তি, বিকল্প সড়কের তথ্য এবং জরুরি যানবাহনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলে জনসাধারণের সুবিধা বাড়বে।
দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন। শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে এ কর্মসূচি ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।
ধর্মীয় উৎসবের সময়ে প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের স্বাভাবিক চলাচল, ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে পূজা উদযাপন পরিষদ, মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আয়োজকদের সঙ্গে প্রশাসনের কার্যকর যোগাযোগ থাকলে জনসমাগম ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশের সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা। প্রশাসনের দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের সমান প্রয়োগ এবং নাগরিকদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এ সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে।
সিটি করপোরেশন ও নাগরিক সেবার গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ঘিরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সম্পৃক্ততার কথাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নগর পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বড় কর্মসূচির সময় কর্মসূচিস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সুবিধা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো সচল রাখা নগর ব্যবস্থাপনার অংশ। এসব কার্যক্রমের নির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মীদের অবদান আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব।
জরুরি সেবা ও নাগরিক সুরক্ষার গুরুত্ব
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও বড় জনসমাগমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসেবা এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড বা অসুস্থতার ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা সামগ্রিক জননিরাপত্তার অংশ।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব সংস্থার নির্দিষ্ট মোতায়েন বা বিশেষ কার্যক্রমের তথ্য নিশ্চিতভাবে পাওয়া না গেলে তাদের সরাসরি অবদানের দাবি করা উচিত নয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ভূমিকা উল্লেখ করাই যথাযথ।
মাঠপর্যায়ের সদস্যদের অবদান
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সাফল্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সড়কে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্য, জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মী, দাপ্তরিক সমন্বয়কারী এবং সংশ্লিষ্ট সেবাকর্মীরা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে সামগ্রিক আয়োজন পরিচালনা সহজ হয়।
দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন, মানুষের চলাচলে সহযোগিতা, নির্দেশনা প্রদান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার মতো কাজের জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব। এসব দায়িত্ব পালনকারীর শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের পরিকল্পনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী মাঠপর্যায়ের সদস্যদের নিষ্ঠাও সমানভাবে মূল্যবান। তাঁদের কর্মপরিবেশ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং দায়িত্ব পালনের উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
প্রশাসনের প্রতি ইতিবাচক মূল্যায়ন ও জনস্বার্থের প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর ঘিরে প্রকাশিত নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের তথ্য থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পরিচালনায় বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং দপ্তরগুলোর মধ্যে যোগাযোগের কার্যকারিতা এ ধরনের আয়োজনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্বের অংশ। তবে একটি বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে নাগরিকের নিরাপত্তা, চলাচলের সুবিধা, জরুরি সেবা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। প্রশংসা ও গঠনমূলক পর্যালোচনা পরস্পরের বিরোধী নয়; বরং তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে আগাম তথ্য প্রদান, বিকল্প যান চলাচলের নির্দেশনা, জরুরি সেবার প্রস্তুতি এবং নাগরিকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ আরও জোরদার করা গেলে চট্টগ্রামবাসীর স্বস্তি বাড়বে।
পরিশেষে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতি, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, এসএসএফ, এসআরবি, র‍্যাব, আনসার, বিজিবি, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের ভূমিকা যথাযথ তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আমার সাংবাদিকতামূলক বিবেচনায়, দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয় শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনসাধারণের নিরাপত্তা, নাগরিক স্বস্তি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবিক আচরণ এবং আইনের শাসনের সমন্বয় ঘটানোর মধ্যেই এর পূর্ণতা।
যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা, নাগরিক সুবিধা উন্নত করা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা হোক জনআস্থার ভিত্তি, প্রশাসন হোক নাগরিক সেবার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা, আর গণমাধ্যম হোক সত্য, দায়িত্বশীলতা ও জনস্বার্থের পক্ষে অবিচল কণ্ঠস্বর।
— মো. কামাল উদ্দিন
সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
ডেপুটি এডিটর, দি ডেইলি টুরিস্ট,
নির্বাহী সম্পাদক, চট্রল চিত্রঃ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here