চট্টগ্রাম কসমোপলিটন হাসপাতালে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে মানববন্ধন

0
12

চট্টগ্রাম কসমোপলিটন হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডাররা বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরে আজ ২৫ অক্টোবর (রবিবার) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ডা. মনির আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার উপেক্ষিত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটির সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে হাসপাতালের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ছাড়া জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, বোর্ড মিটিংয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদনকে “গরুর রচনা” বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি অবমাননাকর মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে বোর্ডের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের আচরণ নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।মানববন্ধনে হাসপাতালের ম্যানেজার জাহেদুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। শেয়ারহোল্ডারদের দাবি, তিনি ২০১৯ সাল থেকে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডে (One Bank Limited) চাকরি করার পাশাপাশি কীভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের দ্বৈত দায়িত্ব হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনার দুরবস্থার অন্যতম কারণ।

নাজিফা কানিজের স্বামী

বক্তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এজিএম আয়োজন, শেয়ারহোল্ডারদের নাম যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে মানববন্ধনে চট্টগ্রাম কসমোপলিটন হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে নাজিফা কানিজ নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বামী। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, তার স্ত্রী ৩০ দিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করেন।
নাজিফা কানিজের স্বামী মানববন্ধনে বলেন, হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. শফিউল হাসান তার স্ত্রীকে রেফার করেছিলেন বিধায় তিনি সেখানে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। কিন্তু ৩০ দিনের চিকিৎসাকালে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা দেখা গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র তিন দিন ডা. শফিউল হাসান রোগীকে দেখতে এসেছিলেন এবং চিকিৎসার মাঝখানে বড় ধরনের দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কোনো সুব্যবস্থা নেননি।

নাজিফা কানিজ

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার আট বছরের বাচ্চা তার মাকে হারিয়েছে, আমি আমার স্ত্রী হারিয়েছি, আমার শ্বশুর তার মেয়ে হারিয়েছেন।” এই ধরনের অপমৃত্যু যাতে অন্য কারও ভাগ্যে না ঘটে, সে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি এই হাসপাতালের লাইসেন্স, মান এবং যোগ্য চিকিৎসক রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি নাজিফা কানিজের পিতা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে অপ্রয়োজনে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রোগীর মৃত্যুর পর আইসিইউ বিল নিয়ে নানা অনিয়ম ও হয়রানি করা হয়। এমনকি মৃত্যুর পরও রোগীকে দীর্ঘ সময় আইসিইউতে রেখে অতিরিক্ত বিল আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
মানববন্ধনে হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here