অভিযোগ না পেলেও চাঁদাবাজির মামলা করতে পারবে পুলিশ, আসছে নতুন আইন

0
15

চাঁদাবাজদের ভয়ে কেউ অভিযোগ করতে না চাইলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ বিষয়ে আগামী কিছুদিনের মধ্যে নতুন আইন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পুলিশ লাইন্সে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন আইজিপি।

মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, চাঁদাবাজদের অনেকেই প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের আশ্রয়ে থেকে অপরাধ করে। এ কারণে ভয়ে অনেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কিংবা সাক্ষ্য দিতে চান না। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ যাতে নিজ উদ্যোগে মামলা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আবার বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল আখ্যা দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে সারা দেশে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে আইনি কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে মাদককে সমাজে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেন এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ওই সময় পুলিশ কার্যত অনুপস্থিত ছিল এবং বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলেছে। বর্তমানে সব জায়গায় পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বেকারত্বসহ নানা সমস্যা থাকায় রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

পুলিশকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ মানবিক ও জনবান্ধব হতে চায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও তারা কিছুদিনের মধ্যে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে নির্মূল করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here