চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতি মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

0
8

মর্জিনা আত্তার চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীতে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত ইয়ামাহা আর১৫ আর২এম মোটরসাইকেলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বায়েজিদ লিংক রোড, পাহাড়তলী থানার বিটাক বাজার ও ফইল্লাতলি বাজার এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অনিক দাশ (২৭), ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯), মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) ও মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ড (৩৮)। তাঁদের মধ্যে অনিক দাশ বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত একজন পুলিশ কনস্টেবল।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে মারুফুর রহমান অপু (২২) তাঁর তিন বন্ধু এমরান, নিশাত ও আসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলশী থানার জাকির হোসেন রোডে ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে একটি মেরুন রঙের প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে।

এ সময় গাড়ি ও মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা অপুর মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তাঁকে মারধর করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়। তাঁদের একজন অপুর মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যান। অন্যরা তাঁকে গাড়িতে করে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাতে থাকেন।

পরে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাঁকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় নিয়ে তাঁর ব্যবহৃত প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

 

পুলিশ জানায়, পরবর্তী সময়ে অনিক দাশ নামের এক ব্যক্তি নিজের ফেসবুক আইডিতে মোটরসাইকেল বিক্রির একটি স্টোরি প্রকাশ করেন। মোটরসাইকেলটি কেনার আগ্রহ দেখিয়ে ভুক্তভোগী মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন। দাম পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের পর তিনি পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। পরে মোটরসাইকেল হস্তান্তরের জন্য তাঁকে বায়েজিদ লিংক রোডের মুখে পুলিশ বক্সের সামনে যেতে বলা হয়।

এ তথ্যের ভিত্তিতে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ২০ অক্টোবর বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনিক দাশকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানার বিটাক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ ও মহিউদ্দিন সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়তলী থানার ফইল্লাতলি বাজার এলাকার সিদ্দিক কমিশনারের বাড়ির রোডে কুদ্দুছের গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ভুক্তভোগীর লুণ্ঠিত ইয়ামাহা আর১৫ আর২এম মোটরসাইকেল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় ২০ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৯। এতে দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুলশী থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here