আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে যাত্রী পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচটি ট্রেনের নির্ধারিত সাপ্তাহিক বন্ধের একাধিক দিন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, রেললাইন ও সেতুর নিরাপত্তা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলবে ঢাকা স্পেশাল-৩। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে টুরিস্ট স্পেশাল-১ ও টুরিস্ট স্পেশাল-২ চলাচল করবে ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর। এ ছাড়া ২৪ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪।
যাত্রীদের চাপ সামলাতে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধও বাতিল করা হয়েছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পূজার প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পূজার ছুটিতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ২৩টি মিটারগেজ এবং পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখা এবং বিলম্ব এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন ও সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের নিবিড় তদারকিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। রেললাইন ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রিলিফ ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে পাহারা জোরদার করা হয়েছে। এ কাজে রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।
চলন্ত ট্রেন, রেলস্টেশন ও রেললাইনে নাশকতা প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি এবং রেলওয়ের কর্মচারীদের নজরদারি ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সভায় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, সংশ্লিষ্ট সচিব ও দপ্তরপ্রধান, ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

