উদ্দেশ্যহীন বাঁকা কথা সুন্দরী প্রতিযোগিতা বনাম নারীর মর্যাদা

0
34

লেখক: মো. কামাল উদ্দিন
নারী কি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক, নাকি মানবসভ্যতার সমান অংশীদার?
“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই অমর পঙ্‌ক্তি নারী ও পুরুষের পারস্পরিক অবদান এবং মানবসভ্যতা নির্মাণে উভয়ের সমান গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সভ্যতার ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নারী ও পুরুষের সম্মিলিত শ্রম, মেধা, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীলতার ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠেছে পৃথিবীর অগ্রযাত্রা। তাই নারীকে কেবল রূপের মাপকাঠিতে বিচার করা কিংবা তাঁর সামগ্রিক পরিচয়কে বাহ্যিক সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলা কোনোভাবেই সুবিচার হতে পারে না।
নারী আমাদের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা, সহকর্মী এবং সমাজের সমান মর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। তাঁর পরিচয় কোনো একটি সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজস্ব চিন্তা, স্বপ্ন, প্রতিভা, অধিকার ও আত্মমর্যাদার অধিকারী একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ। অথচ যুগে যুগে সমাজের নানা স্তরে নারীকে কখনো অবহেলা, কখনো বৈষম্য, কখনো নির্যাতন, আবার কখনো সৌন্দর্য ও ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া প্রকৃত অর্থে সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, নাকি যোগ্যতার মূল্যায়ন?
বর্তমান বিশ্বে সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশন শো ও মডেলিং বিনোদন এবং বাণিজ্যিক সংস্কৃতির পরিচিত অংশ। এসব আয়োজনের সমর্থকেরা বলেন, এর মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা ও পেশাগত সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, অনেক ক্ষেত্রে নারীর বাহ্যিক সৌন্দর্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে তাঁর মেধা, যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বকে আড়াল করা হয়।
আমার প্রশ্ন এখানেই। একজন নারীর মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি যদি তাঁর শারীরিক সৌন্দর্য, দেহের গড়ন কিংবা ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপনের ক্ষমতা হয়ে ওঠে, তাহলে তাঁর শিক্ষা, মনন, কর্মদক্ষতা, মানবিকতা ও সামাজিক অবদান কোথায় স্থান পাবে?
একজন নারী বিজ্ঞানী গবেষণার মাধ্যমে মানবকল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। একজন চিকিৎসক অসুস্থ মানুষের জীবন রক্ষায় নিয়োজিত থাকতে পারেন। একজন শিক্ষক প্রজন্মকে আলোকিত করতে পারেন। একজন সাংবাদিক সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমাজের বিবেককে জাগ্রত রাখতে পারেন। একজন ক্রীড়াবিদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করতে পারেন। একজন উদ্যোক্তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারেন। তাঁদের প্রত্যেকের সাফল্যই সৌন্দর্যের প্রচলিত মাপকাঠির চেয়ে অনেক বিস্তৃত ও অর্থবহ।
তাহলে একজন নারীর সাফল্যকে কেবল তাঁর বাহ্যিক রূপের সঙ্গে যুক্ত করে দেখব কেন? কেন তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা, কর্মদক্ষতা ও মানবিক গুণাবলিকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে না?
আমি মনে করি, প্রতিযোগিতা হোক মানুষের জ্ঞান, যোগ্যতা, সৃজনশীলতা, সততা ও কর্মদক্ষতার। সৌন্দর্য থাকুক ব্যক্তির স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে, কিন্তু সেটি যেন মানুষের সামগ্রিক মূল্য নির্ধারণের একমাত্র মানদণ্ড হয়ে না ওঠে।
নারীর স্বাধীনতা ও মর্যাদা: সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কার?
একজন নারী কী পোশাক পরবেন, কোন পেশায় যুক্ত হবেন, কীভাবে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করবেন এবং কোন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, এসব বিষয়ে তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও স্বাধীনতার গুরুত্ব রয়েছে। কোনো নারী সুন্দরী প্রতিযোগিতা বা মডেলিংয়ে অংশ নিলেই তাঁকে হেয় করা কিংবা তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা ন্যায়সংগত নয়।
একই সঙ্গে যেকোনো আয়োজনের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য, উপস্থাপনার ধরন, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, অংশগ্রহণকারীর সম্মতি এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। সৌন্দর্যকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে যদি কোনো নারীকে কেবল দর্শকের বিনোদনের উপকরণে পরিণত করা হয়, তাহলে সেই প্রবণতার সমালোচনা অবশ্যই করা যেতে পারে।
আমার আপত্তি নারীর সৌন্দর্য, পোশাক কিংবা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়। আমার প্রশ্ন হলো, নারীর স্বাধীনতার নামে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতাকে যদি কেবল বাহ্যিক উপস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে সেটিকে কতটা অগ্রগতি বলা যায়?
স্বাধীনতা মানে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার। আর মর্যাদা মানে সেই সিদ্ধান্তের কারণে অপমান, বৈষম্য কিংবা শোষণের শিকার না হওয়া। এই দুটি বিষয়কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার কোনো প্রয়োজন নেই।
নারী নির্যাতনের দায় নারীর নয়
পৃথিবীর ইতিহাসে নারীর প্রতি বৈষম্য, নির্যাতন ও অধিকার হরণের অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। কোনো কোনো সমাজে নারীকে সম্পত্তির মতো বিবেচনা করা হয়েছে। কোথাও তাঁকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, কোথাও উত্তরাধিকার ও সম্পদের অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে, আবার কোথাও সামাজিক প্রথার নামে তাঁর জীবন ও স্বাধীনতার ওপর নিষ্ঠুর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি অমানবিক আচরণের উদাহরণ মানবসভ্যতার বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সতীদাহ প্রথার মতো নিষ্ঠুর প্রথায় বিধবাদের জীবন বিপন্ন করা হয়েছে। আধুনিক যুগেও নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি, পারিবারিক নির্যাতন, মানব পাচার এবং বৈষম্যের ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করে।
তবে নারী নির্যাতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নারীর পোশাক, সৌন্দর্য কিংবা স্বাধীনতাকে দায়ী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো নারী যে পোশাকই পরুন, যে পেশাতেই যুক্ত থাকুন কিংবা যে জীবনধারাই অনুসরণ করুন, তাঁর সম্মতি ছাড়া তাঁকে স্পর্শ করা, হয়রানি করা বা নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। যৌন সহিংসতার দায় অপরাধীর, ভুক্তভোগীর নয়।
সমাজে অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন অপরাধীর জবাবদিহি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি। নারীর স্বাধীনতা সীমিত করে নয়, বরং তাঁর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করেই একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক দায়িত্ব
ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষের মধ্যে সংযম, ন্যায়বোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। ইসলামের শিক্ষায় মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক দায়িত্ব এবং নারীর অধিকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষায় নারীর প্রতি সদাচরণ এবং তাঁদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করতে হলে শুধু কথায় নয়, আচরণেও তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। একজন নারীকে মা, বোন কিংবা স্ত্রী হিসেবে সম্মান করার পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবেও তাঁর অধিকারকে মর্যাদা দিতে হবে। কারণ নারীর সম্মান কেবল তাঁর পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; তাঁর মানবিক মর্যাদা জন্মগত।
একইভাবে কোনো ধর্মীয় বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রেও তার সঠিক অর্থ ও প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি। ধর্মকে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার না বানিয়ে ন্যায়, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করাই হওয়া উচিত আমাদের লক্ষ্য।
ইতিহাসে নারী: সৌন্দর্যের চেয়ে বড় পরিচয়
বিশ্ব ইতিহাসে এমন অসংখ্য নারী রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব, সাহস ও কর্মের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথে প্রভাব ফেলেছেন। প্রাচীন মিশরের ক্লিওপেট্রা রাজনৈতিক ক্ষমতা ও কূটনীতির ইতিহাসে আলোচিত একটি চরিত্র। তাঁর জীবন নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। তাঁকে কেবল সৌন্দর্য কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের আলোকে বিচার করলে তাঁর সময়ের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়।
আবার অসংখ্য নারী তাঁদের জ্ঞান, গবেষণা, সাহিত্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, রাজনীতি ও সমাজসেবার মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের সাফল্য প্রমাণ করে, নারীর পরিচয় কোনো একটি সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আমাদের দেশেও নারীরা শিক্ষা, প্রশাসন, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, শিল্প, চিকিৎসা, ব্যবসা, ক্রীড়া ও প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের পথচলার প্রধান শক্তি মেধা, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়। এসব অর্জনকে সামনে এনে নতুন প্রজন্মের মেয়েদের উৎসাহিত করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
সৌন্দর্যের নামে বাণিজ্যিকীকরণ: প্রশ্ন তোলা কি অন্যায়?
সম্প্রতি চট্টগ্রামে লিলি কসমেটিকসের সৌজন্যে একটি ফ্যাশন শো আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানতে পেরেছি। এ ধরনের আয়োজন নিয়ে আলোচনা বা প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। তবে কোনো আয়োজন সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করার আগে তার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, নিয়মকানুন এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আয়োজকদের দায়িত্ব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা প্রয়োজন।
আমি মনে করি, যেকোনো ফ্যাশন শো কিংবা সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, সম্মতি, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নারী যেন প্রতারণা, চাপ, শোষণ কিংবা অসম্মানজনক আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়ে আয়োজকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদেরও নিজেদের অধিকার, শর্তাবলি ও পেশাগত সুযোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। কোনো আয়োজনের সমালোচনা করতে হলে তার নির্দিষ্ট দিক নিয়ে যুক্তিসংগত প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন, অংশগ্রহণকারী নারীদের অপমান করে নয়।
চট্টগ্রামের যেসব নারী এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের প্রতি আমার বক্তব্য হলো, নিজের প্রতিভা, যোগ্যতা ও আত্মমর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। যে ক্ষেত্রেই কাজ করুন, নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং এমন পরিবেশ প্রত্যাশা করুন, যেখানে আপনাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সম্মান করা হবে।
তরুণ প্রজন্মের জন্য আমার আহ্বান
আমাদের দেশের তরুণ-তরুণীদের সামনে আজ শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা, সাহিত্য, শিল্প, ক্রীড়া ও উদ্যোক্তা হওয়ার অসংখ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বায়নের যুগে নিজেদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগও আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত।
তাই সৌন্দর্যকে সাফল্যের একমাত্র সিঁড়ি হিসেবে বিবেচনা না করে জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একজন নারী চাইলে মডেল হতে পারেন, অভিনেত্রী হতে পারেন, বিজ্ঞানী হতে পারেন, উদ্যোক্তা হতে পারেন কিংবা অন্য যেকোনো পেশায় নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। তাঁর পেশা দিয়ে নয়, কাজের মান, সততা ও মানবিকতা দিয়ে তাঁর অবদান বিচার করা উচিত।
একই সঙ্গে পুরুষদেরও নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা, তাঁর স্বাধীনতা নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করা কিংবা তাঁর পোশাকের ভিত্তিতে চরিত্র নির্ধারণ করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নারী-পুরুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠতে পারে।
শেষ কথা: সুন্দরী প্রতিযোগিতা নয়, মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা হোক
আমি সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি নারীর স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার জন্য নয়, বরং নারীর সামগ্রিক পরিচয়, মর্যাদা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানাতে। আমার বক্তব্যের সঙ্গে কেউ একমত নাও হতে পারেন। মতভেদ থাকতেই পারে, আলোচনা ও সমালোচনাও চলতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনা যেন যুক্তি, তথ্য ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হয়।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কোনো নারীকে তাঁর বাহ্যিক সৌন্দর্যের কারণে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হবে না, আবার সৌন্দর্যের প্রচলিত মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকায় তাঁকে অবহেলাও করা হবে না। যেখানে নারীর সাফল্য নির্ধারিত হবে তাঁর যোগ্যতা, কর্মদক্ষতা, প্রজ্ঞা, সততা ও মানবিক অবদানের ভিত্তিতে।
একজন নারী সুন্দর হতে পারেন, একজন পুরুষও সুদর্শন হতে পারেন। কিন্তু মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল চেহারায় নয়; তার চিন্তায়, আচরণে, বিবেকে, সৃষ্টিশীলতায় এবং অন্য মানুষের প্রতি দায়িত্বশীলতায়।
তাই আসুন, বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মানুষের অন্তর্গত সৌন্দর্য, জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও মানবিকতার মূল্যায়নকে প্রাধান্য দিই। নারীকে পণ্য নয়, মানুষ হিসেবে দেখি। তাঁর স্বাধীনতাকে সম্মান করি, তাঁর অধিকার রক্ষা করি এবং তাঁর সাফল্যের পথে সহযাত্রী হই।
আমার প্রত্যাশা, সুন্দরী প্রতিযোগিতার বিতর্ক অতিক্রম করে আমরা এমন এক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব, যেখানে নারী-পুরুষের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হবে তাঁর কর্মে, গুণে, জ্ঞানে ও আদর্শে।
কারণ, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য কোনো মুখের অবয়বে নয়, মানুষের বিবেক ও মানবিকতায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here