গ্যাস সংকটে লাইনে কাটছে দিন, রান্না ও পরিবহনে বাড়ছে দুর্ভোগ

By admin
3 Min Read

রাজধানীতে ভোর হওয়ার আগেই সিএনজি স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ গাড়ির সারি। রাত পোহানোর সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষার সময়ও বাড়ছে, কিন্তু মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও জ্বালানি পাচ্ছেন না। ফলে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। রাজধানীর এক সিএনজিচালক নবীন হোসেন জানান, ভোর ৪টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি। গ্যাস না থাকায় অন্য স্টেশনেও যেতে পারছেন না। তার ভাষায়, যত সময়ই লাগুক, এই স্টেশন থেকেই গ্যাস নিতে হবে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২২টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি চাহিদা পূরণ করা হয় আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে। ফলে এলএনজি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। ২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এসব টার্মিনাল থেকে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। তবে চলতি সপ্তাহে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশন থেকে শুরু করে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর।পেট্রোবাংলার তথ্য বলছে, গত ১৮ জুলাই দেশে গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল ৯২৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৯৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কিন্তু টার্মিনালের ত্রুটির কারণে ২২ জুলাই এলএনজি সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ৬২১ মিলিয়ন ঘনফুটে। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও সামান্য কমে ৯০৯ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। হাতিরঝিল-বাড্ডা এলাকার জামান সিএনজি স্টেশন এবং মধ্য বাড্ডার মা সিএনজি স্টেশনসহ রাজধানীর অধিকাংশ স্টেশনেই দেখা গেছে একই অবস্থা। গ্যাস এলে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টা সরবরাহ করা হচ্ছে, এরপর আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। গ্যাস সংকটের কারণে ভাড়ায় চালিত সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে পারছেন না। এতে তাদের আয় কমে গেছে। একই সঙ্গে রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদেরও বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। শুধু পরিবহন নয়, আবাসিক এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নার কাজে অতিরিক্ত সময় ও খরচ বেড়েছে। অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে এলপিজি বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে সরকার। তার মতে, সিএনজি স্টেশনগুলোতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি সাময়িক এবং দ্রুতই কেটে যাবে।

Share This Article
Leave a Comment