
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে জিহাদ (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মহাসড়কের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা সংলগ্ন ব্র্যাক অফিসের পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ সরাইল সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। সে স্থানীয় একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করত। পরিবারের দাবি, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা পূর্বপরিকল্পিত কোনো বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না। স্বজনরা জানান, শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা শেষে সন্ধ্যার পর বাবাকে এগিয়ে আনতে বাড়ি থেকে বের হয় জিহাদ। রাতে দীর্ঘ সময় পরও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মহাসড়কের পাশে তার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক। নিহতের বাবা আজগর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মাগরিবের পর ছেলে আমাকে এগিয়ে আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাতে বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজি করে রাস্তার পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাই। তার মোবাইল ফোনটিও সেখানে ছিল না। ছিনতাইকারীরা অথবা পরিকল্পিতভাবে কেউ আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার চাই। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ছুরিকাঘাতে কিশোর খুনের ঘটনাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে নাকি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।