
– মো. কামাল উদ্দিনঃ ২০০১ সাল। জীবনের এমন একটি অধ্যায়, যার কথা মনে হলেই আজও হৃদয়ের কোথাও এক অদৃশ্য আলো জ্বলে ওঠে। মানুষের জীবনে কিছু পরিচয় থাকে, যা সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, অনুভূতির গভীরতায় অমর হয়ে থাকে। সেই রকমই এক পরিচয় হয়েছিল আফ্রিকার আলজেরিয়া থেকে আসা এক তরুণ লেখিকা ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের সঙ্গে। তাঁর প্রকৃত নাম উল্লেখ না করে আমি তাকে একটি সাহিত্যিক নামেই স্মরণ করছি—নাদিয়া বেনইয়াহিয়া। বিশ্ব যুব সম্মেলনে পৃথিবীর নানা দেশের তরুণ প্রতিনিধি, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক ও সমাজকর্মীরা একত্রিত হয়েছিলেন। ভাষা ছিল ভিন্ন, সংস্কৃতি ছিল ভিন্ন, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন ছিল এক—একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা। প্রথম পরিচয় হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায়। আলোচনার বিষয় ছিল ক্রাইম সাংবাদিকতা, নারী পাচার, মানবাধিকার, যুবসমাজের ভূমিকা এবং সমাজ পরিবর্তনে গণমাধ্যমের দায়িত্ব। প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য করলাম, নাদিয়া খুব মনোযোগ দিয়ে সবার বক্তব্য শুনছেন। যখন তিনি নিজের বক্তব্য রাখলেন, পুরো হলরুম যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। তিনি বলছিলেন—একজন সাংবাদিকের কলম কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারে না। সত্যকে লুকিয়ে রাখলে সমাজ বদলায় না, বরং অন্যায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
তার কথাগুলো ছিল দৃঢ়, অথচ হৃদয়স্পর্শী। আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দেশের বেকারত্ব, দারিদ্র্য, যুবশক্তির সম্ভাবনা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছিলাম। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমার উপস্থাপনা শেষ হওয়ার পর নাদিয়া এগিয়ে এসে বলেছিলেন— “তোমার দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে তুমি যেভাবে তথ্যভিত্তিক কথা বলেছ, তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। একজন বক্তার সবচেয়ে বড় শক্তি সত্য।” এই একটি বাক্য আজও আমার কানে বাজে। পরবর্তী পাঁচ দিন আমরা একই কর্মশালায় পাশাপাশি বসেছি। কখনো গ্রুপ ডিসকাশন, কখনো সেমিনার, কখনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—অজান্তেই একটি আন্তরিক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। নাদিয়া ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের মেয়ে। তাঁর শৈশব কেটেছে সংগ্রামের মধ্যে। তিনি বলেছিলেন, তাদের জনগোষ্ঠীর মানুষ বহু বছর ধরে বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। সেই বাস্তবতাই তাকে প্রতিবাদী করে তুলেছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন লেখকের প্রথম দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমাদের আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে ছিল নারী পাচার। দক্ষিণ এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অভিজ্ঞতা ভিন্ন হলেও সমস্যার মূল ছিল একই—দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং দুর্নীতি। আমি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাস্তবতা তুলে ধরেছিলাম। তিনি আলজেরিয়ার অভিজ্ঞতা বলেছিলেন। আমরা দুজনই উপলব্ধি করেছিলাম—অন্যায়ের ভাষা পৃথিবীর সব দেশে এক, আবার প্রতিবাদের ভাষাও এক। দিনের কর্মশালা শেষে আমরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান ঘুরে দেখতাম। কখনো প্রাচীন স্থাপত্য, কখনো জাদুঘর, কখনো মুক্ত প্রাঙ্গণে বসে দীর্ঘ আড্ডা। তিনি জানতে চাইতেন বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্য, কর্ণফুলী নদী, পাহাড়, সমুদ্র—সবকিছু। আমি বলতাম, বাংলাদেশ ছোট হলেও তার ইতিহাস অনেক বড়। তিনি মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। একদিন সন্ধ্যায় হাঁটতে হাঁটতে তিনি বললেন— “আমি একদিন বাংলাদেশে যেতে চাই। তোমার দেশকে নিজের চোখে দেখতে চাই।” সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, দুই মহাদেশের দূরত্ব যেন কয়েক কদমে নেমে এসেছে। নাদিয়া ছিলেন লেখক, আবার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকও। তিনি বলতেন, একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে হলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে তিনি প্রস্তুত। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা ছিল চাকরি নয়, ছিল সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমাদের আলোচনা কখনো সাহিত্য, কখনো রাজনীতি, কখনো ইতিহাস, কখনো মানুষের অধিকার নিয়ে চলত। পঞ্চম দিনের শেষ বিকেলে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি একটি ছোট বাক্স আমার হাতে তুলে দিলেন।
ভেতরে ছিল একটি সুন্দর কলম এবং একটি হাতঘড়ি। হেসে বললেন— “একজন লেখকের হাতে কলমই সবচেয়ে বড় শক্তি। আর ঘড়ি মনে করিয়ে দেবে—সময় কখনো কারও জন্য অপেক্ষা করে না।” আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম।
একটি উপহার কখনো তার আর্থিক মূল্যে বড় হয় না; বড় হয় তার ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতায়। বিদায়ের মুহূর্তে তাঁর চোখেও ছিল অদ্ভুত এক বিষণ্নতা। আমারও মনে হচ্ছিল—মাত্র পাঁচ দিনের পরিচয়, অথচ মনে হচ্ছে বহু বছরের আপনজনকে বিদায় দিচ্ছি। তিনি বলেছিলেন— “যেখানেই থাকি, লেখালেখি থামাব না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখব। মানুষকে ভালোবাসব।”
আমিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— “বাংলাদেশ থেকেও সত্যের পক্ষে লিখে যাব।” সেদিন বুঝেছিলাম, পৃথিবীর মানচিত্রে দেশের সীমানা আছে, কিন্তু সত্য, সাহিত্য, মানবতা ও বন্ধুত্বের কোনো সীমানা নেই। সময় বড়ই আশ্চর্য। ক্যালেন্ডারের পাতায় বছর বদলে যায়, ঋতুর পর ঋতু আসে, মানুষ নতুন পরিচয়ে আবদ্ধ হয়; কিন্তু কিছু কিছু স্মৃতি সময়ের কাছে কখনো পরাজিত হয় না। ২০০১ সালের সেই বিশ্ব যুব সম্মেলনের পাঁচটি দিন আমার জীবনের এমনই এক উজ্জ্বল অধ্যায়, যার প্রতিটি মুহূর্ত আজও হৃদয়ের গভীরে অম্লান হয়ে আছে। সম্মেলনের শেষ দুদিনে আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়ে উঠেছিল। পৃথিবীর নানা দেশের প্রতিনিধি থাকলেও আমরা দুজন যেন একই চিন্তার দুটি মানুষ হয়ে উঠেছিলাম। আলোচনার টেবিলে যেমন যুক্তি ছিল, তেমনি অবসরের আড্ডায় ছিল সাহিত্য, জীবন, স্বপ্ন আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। নাদিয়া বলেছিলেন, তিনি এমন এক সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে অর্থের প্রাচুর্য ছিল না, কিন্তু আত্মমর্যাদার কোনো অভাব ছিল না। তাঁর বাবা-মা তাঁকে শিখিয়েছিলেন—অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করতে। ছোটবেলা থেকেই বই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় বন্ধু। সেই বইয়ের পাতায় তিনি চিনেছিলেন স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকারকে। তিনি বলেছিলেন, আলজেরিয়ার ইতিহাস শুধু স্বাধীনতার ইতিহাস নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম, বৈষম্য ও আত্মমর্যাদা রক্ষার ইতিহাসও। সমাজের নানা স্তরে বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানুষের কষ্ট তাঁর লেখার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাই তিনি শুধু গল্প লিখতেন না, লিখতেন মানুষের কান্না, বঞ্চনা এবং স্বপ্নের গল্প।
আমি তাঁকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের কথা বলেছিলাম। তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। তারপর ধীরে বলেছিলেন— “আমাদের দেশের ইতিহাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মানুষের অশ্রুর ভাষা তো এক।” এই একটি বাক্য যেন মানবতার সবচেয়ে বড় সংজ্ঞা। সম্মেলনের ফাঁকে আমরা কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থান ঘুরে দেখেছিলাম। ইতিহাসের দেয়ালে হাত রেখে আমরা আলোচনা করেছিলাম—সভ্যতা কেবল ইট-পাথরের স্থাপত্যে গড়ে ওঠে না; গড়ে ওঠে মানুষের বিবেক, সংস্কৃতি ও স্মৃতির ভিতের ওপর। একদিন একটি পুরোনো জাদুঘরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছিলেন,
“একজন লেখকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ইতিহাসকে জীবন্ত রাখা। মানুষ ভুলে যায়, কিন্তু লেখা কখনো ভুলে যায় না।”
আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, একজন সাংবাদিকের চেয়ে একজন দার্শনিক কথা বলছেন। আমাদের দীর্ঘ আড্ডার বিষয় ছিল ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা। তিনি বলেছিলেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেতে চান। কোনো নির্যাতিত মানুষের গল্প যদি বিশ্বের সামনে তুলে ধরা যায়, তবে একজন সাংবাদিকের জীবনের সার্থকতা সেখানেই।
আমি বলেছিলাম, সাংবাদিকতার শক্তি ক্ষমতার কাছে মাথা নত করার জন্য নয়; সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য।
আমাদের এই চিন্তার মিলই হয়তো আমাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করেছিল। এক বিকেলে সম্মেলনস্থলের বাগানে বসে তিনি হঠাৎ বললেন, “বাংলাদেশকে আমি বইয়ে পড়েছি, কিন্তু তোমার মুখে শুনে মনে হচ্ছে দেশটি যেন আরও আপন। একদিন আমি অবশ্যই বাংলাদেশে যাব। চট্টগ্রামের পাহাড়, সমুদ্র, কর্ণফুলী নদী—সব দেখতে চাই।” আমি হেসে বলেছিলাম,
“বাংলাদেশে এলে তুমি অতিথি নও, আপন মানুষ হিসেবেই থাকবে।” তিনি মৃদু হেসেছিলেন। সেই হাসির মধ্যে ছিল আন্তরিকতা, ছিল বিশ্বাস, ছিল এক অদ্ভুত নির্মল সৌন্দর্য। বিদায়ের আগের সন্ধ্যায় তিনি আমার হাতে একটি সুন্দর কলম এবং একটি হাতঘড়ি তুলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এই কলম তোমাকে সত্য লিখতে মনে করিয়ে দেবে। আর এই ঘড়ি মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান।” আমি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ ছিলাম। কারণ উপহারটি শুধু একটি বস্তু ছিল না; এটি ছিল একজন সহযোদ্ধার প্রতি আরেকজন সহযোদ্ধার শ্রদ্ধা ও শুভকামনার প্রতীক। আমারও একটি ছোট উপহার ছিল—বাংলাদেশের স্মারক। তিনি সেটি হাতে নিয়ে বলেছিলেন, “আমি এটিকে শুধু একটি উপহার হিসেবে নয়, বাংলাদেশের একটি স্মৃতি হিসেবে রেখে দেব।” সম্মেলনের শেষ দিন যখন সবাই নিজ নিজ দেশের উদ্দেশে বিদায় নিচ্ছিল, তখন পরিবেশে এক ধরনের নীরব বিষণ্নতা নেমে এসেছিল। করমর্দনের সময় তিনি বলেছিলেন, “পৃথিবী ছোট। হয়তো আবার কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেখা হবে। যদি না-ও হয়, আমাদের লেখা আমাদের পরিচয় বহন করবে।” আমি উত্তর দিয়েছিলাম, “মানুষ কখনো কখনো হারিয়ে যায়, কিন্তু সুন্দর স্মৃতি কখনো হারায় না।” তারপর আমরা ভিন্ন ভিন্ন পথে চলে গেলাম। পরবর্তী বছরগুলোতে জানতে পেরেছিলাম, তিনি বিভিন্ন দেশে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। কখনো মানবাধিকার, কখনো নারী নির্যাতন, কখনো শরণার্থীদের জীবন, কখনো সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন—এসব নিয়েই তাঁর নিরন্তর লেখালেখি। আমিও বাংলাদেশে সাংবাদিকতা, গবেষণা, টেলিভিশন উপস্থাপনা এবং লেখালেখির জগতে নিজের পথ ধরে এগিয়ে চলেছি। আজ এত বছর পর যখন পুরোনো ডায়েরির পাতা উল্টাই কিংবা সেই সম্মেলনের স্মৃতি মনে পড়ে, তখন উপলব্ধি করি—জীবনের সব সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। কিছু সম্পর্ক মাত্র কয়েক দিনের হলেও তার গভীরতা সারাজীবনের সমান হয়ে যায়। নাদিয়ার সঙ্গে সেই পাঁচ দিনের পরিচয় আমাকে শিখিয়েছিল—একজন প্রকৃত লেখকের কোনো ভৌগোলিক সীমান্ত নেই, একজন সত্যিকারের সাংবাদিকের কোনো জাতিগত বিভাজন নেই, আর একজন মানবিক মানুষের পরিচয় কেবল একটাই—তিনি মানুষ। আজও সেই উপহারের কলমের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে সেই হাতঘড়ির টিকটিক শব্দ, যেন সময়ের ভেতর থেকে একটি কণ্ঠস্বর বলে ওঠে—”সত্য লিখে যাও, মানুষের পাশে থেকো, কারণ সময় থেমে থাকে না; কিন্তু সত্য ও মানবতার পক্ষে লেখা শব্দগুলো সময়কে অতিক্রম করে বেঁচে থাকে।” দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। পৃথিবী বদলেছে, মানুষ বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে। কিন্তু ২০০১ সালের সেই পাঁচ দিনের বন্ধুত্ব, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, মানবতা ও স্বপ্নে ভরা মুহূর্তগুলো আজও আমার স্মৃতির আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে। হয়তো আর কখনো দেখা হবে না। হয়তো পৃথিবীর কোনো প্রান্তে তিনি এখনও মানুষের গল্প লিখে চলেছেন। আর আমি বাংলাদেশে বসে বিশ্বাস করি—সত্য, সাহস এবং মানবতার পক্ষে যারা কলম ধরেন, তারা কখনো সত্যিকার অর্থে একে অপরের কাছ থেকে দূরে সরে যান না। তাদের বন্ধন টিকে থাকে স্মৃতিতে, শ্রদ্ধায় এবং ইতিহাসের পাতায়।