কালবৈশাখীর তাণ্ডব : জয়পুরহাটে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

By admin
3 Min Read

জয়পুরহাটে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গাছপালা, বসতঘরের টিনের চালা ও বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর সোয়া একটার দিকে হঠাৎ আক্কেলপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় এই ঝড়, যা প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় আক্কেলপুর পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে হঠাৎ ঝড়ের সঙ্গে তীব্র দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হলে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পাকা ও আধা পাকা বোরো ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছ ও ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যাওয়া এবং গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। পৌরশহরের সোনামুখী লেঙ্গল পীরের মাজার এলাকায় শতবর্ষী একটি গাছ ভেঙে পড়ায় আক্কেলপুর-বগুড়া সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা গাছটি সরানোর কাজ করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ওই সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। এদিকে আক্কেলপুর উপজেলার নবাবগঞ্জ ঘাট মহাশ্মশানের প্রায় একশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী পাইকর গাছটি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ায় পুরো আক্কেলপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিঘায় বিঘায় জমিতে আলুর চাষ করে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বোরো ধান লাগিয়ে ছিলেন। তবে ধান কাটার আগমুহূর্তে এমন শিলাবৃষ্টি তাদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে।  তেমারিয়া গ্রামের কৃষক রাশেদুল ইসলাম পাইলট বলেন, মৌসুমের কষ্টে ফলানো বোরো ধান এক ঝড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন কেমন করে ঋণ শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুর রহমান বলেন, ঝড়ে সরবরাহ লাইনের অন্তত ৭টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। এতে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অন্তত দুই দিন সময় লাগতে পারে। আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন ক্ষতিগ্রস্ত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার জন্য কৃষকদের আহ্বানও জানিয়েছেন। কৃষি কর্মকর্তা বলেন, শিলাবৃষ্টির আঘাতে ধানের শীষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ফলন হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। কৃষকদের ক্ষতির বিষয়ে উপর মহলে জানানো হবে।

Share This Article
Leave a Comment