কফিনে ফিরল লিমন, উন্মোচিত হচ্ছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

By admin
3 Min Read

যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে ফেরার পর নতুন করে সামনে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে দেহ উদ্ধার এবং ঘনিষ্ঠজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন। সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় লিমনের কফিনবন্দি মরদেহ। বিমানবন্দরে এ সময় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, লিমনের বাবা-মা ও স্বজনরা। প্রিয়জনের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা জহুরুল হক বলেন, একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। অনেক যত্নে দুই ছেলেকে বড় করেছি, কখনো কষ্ট দিইনি। এমন নির্মম পরিণতি কখনো কল্পনাও করিনি। তিনি বলেন, আল্লাহই জানেন, তার ছেলেকে কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ নিয়ে যাত্রা শুরু হয় জামালপুরের মাদারগঞ্জে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। জানা গেছে, প্রথমে গাজীপুরের মাওনায় পারিবারিক বাসায় একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা গ্রামে মাগরিবের পর দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। লিমনের মামা বলেন, পরিবারের সঙ্গে কোনো বিরোধ বা রুমমেট সংক্রান্ত কোনো সমস্যা লিমন কখনো শেয়ার করেনি, সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থাগুলো জানায়, লিমন নিখোঁজ হওয়ার পর কয়েক দিন অনুসন্ধানের পর ফ্লোরিডার ট্যাম্পা এলাকায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় লিমনের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক বিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন। তারা জানান, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদঘাটনে সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লিমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার মোবাইল ফোনের লোকেশন, চলাচলের তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে অগ্রগতি আনছে। জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতিমালা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন এবং মাসের শেষদিকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।  শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী। গাজীপুরের মাওনা মডেল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ২০২৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এ ঘটনায় দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও সচেতন মহল।

Share This Article
Leave a Comment