“রাউজান–রাঙ্গুনিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের রহস্য উদঘাটন ডিবি–থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মূল হোতা মনির হোসেন গ্রেফতার”

0
332

ডেস্ক চট্রলচিত্রঃ
চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় সংঘটিত একাধিক পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এসব ঘটনার প্রধান আসামি মোঃ মনির হোসেন (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এলাকায় গভীর রাতে পরপর কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। প্রতিটি অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে বিশেষ ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত ব্যানারগুলো ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষি ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি। ব্যানারগুলোতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির নাম এবং একাধিক মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। এসব ব্যানার ঘটনাগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), রাউজান থানা ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ তদন্ত ও অভিযান দল গঠন করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ মূল অভিযুক্তকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ মনির হোসেন-কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির পিতার নাম মোঃ আনোয়ার হোসেন এবং মাতার নাম করিমননেছা কমলা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা—খাগড়াছড়ি (শেখপাড়া), ভাসানিয়াদাম, ০৫ নম্বর ওয়ার্ড, ভাসানিয়াদাম ইউনিয়ন পরিষদ, থানা লংগদু, জেলা রাঙ্গামাটি। গ্রেফতারের পর তার বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষির ৩টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করে, যা অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ব্যানারের সঙ্গে হুবহু মিল রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মোঃ মনির হোসেন স্বীকার করেন, ব্যানারে উল্লেখিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ছিল। তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রতিশোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটান বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তিনি পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি পূর্বে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় বসবাস করতেন এবং পরবর্তীতে রাঙ্গামাটির কলেজ গেট এলাকায় অবস্থান নেন। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির লংগদু থানা ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদক সংক্রান্তসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরি মামলায় তিনি ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধারকৃত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, রাঙ্গামাটির কলেজ গেট ও রানিরহাট এলাকার রাজানগর এবং রাউজান পৌরসভা এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে মনির হোসেন এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটান। এসব ঘটনার মাধ্যমে একদিকে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং অন্যদিকে শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে যারা সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here