**ভারতে আসছেন পুতিন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য**

0
127

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে আসছেন।此次 সফরের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২১ সালের পর এটি পুতিনের প্রথম ভারত সফর। গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মস্কো সফরে গিয়ে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে দুই দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময় চলছে। পুতিন ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখোমুখি, আর ভারতের সামনে রয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমিত সংঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা এবং রাশিয়ার তেল ক্রয় সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পুতিন দিল্লি সফরে যাচ্ছেন।**রাশিয়ার তেল ক্রয় নিয়ে চাপ:** ভারত সম্প্রতি রাশিয়ার তেলের আমদানি কমিয়েছে, যা মস্কোর কাছে প্রত্যাশিত নয়। বেসরকারি রিফাইনারিগুলো ক্রয় বন্ধ করলেও কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সীমিত পরিমাণে তেল কিনছে। রাশিয়া আশা করছে, এ হ্রাস সাময়িক এবং তারা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। **নতুন অস্ত্র ও সামরিক সহযোগিতা:** ভারতের সামরিক সরঞ্জামের ৬০-৭০ শতাংশ এখনও রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল। ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন এবং ক্ষেপণাস্ত্র—সব ক্ষেত্রেই রাশিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। সাম্প্রতিক পাকিস্তান-সংঘর্ষের সময় ‘অপারেশন সিঁদুরে’ রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য ভারত আরও এস-৪০০ ক্রয়ের কথা ভাবছে। তবে এস-৫০০ বা নতুন সু-৫৭ যুদ্ধবিমান এখনই কিনছে না। অন্যদিকে ব্রহ্মোস-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের পুরনো অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গুলি বদলাতে রাশিয়ার প্যানৎসির সিস্টেমের যৌথ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। চীনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ভোরোনেজ লং-রেঞ্জ রাডার কেনার কথাও ভাবছে। পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন তৈরিতে রাশিয়া ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। **ব্যবসা-বাণিজ্যের চ্যালেঞ্জ:** রাশিয়া থেকে ভারতের আমদানি ৬৫ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু রপ্তানি মাত্র ৫ বিলিয়ন, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বড় অসমতা। দুই দেশই বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম এবং বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় খুঁজছে। ক্ষুদ্র মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করেই ভারতকে এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here