**কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার নারীর সঙ্গে কারাগারে ২ বছরের শিশু**

0
121

পাবনার ঈশ্বরদীতে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি কুকুরছানা বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগে গৃহবধূ নিশি রহমান (৩৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার সঙ্গে কারাগারে রয়েছেন তার দুই বছর বয়সী সন্তানও। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নিশি রহমানকে ঈশ্বরদী থানা থেকে পাবনা আমলি আদালতে তোলা হলে বিচারক তরিকুল ইসলাম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। কারাগারে দেখা যায়, তার সঙ্গে রয়েছে তার দুই বছর বয়সী ছেলে। নিশি রহমান ঈশ্বরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, এবং কারাগারে তার সঙ্গে ছোট ছেলে রয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবক রঞ্জন সরকার বলেন, “নিশি রহমানের সঙ্গে শিশু বাচ্চা নিয়ে কারাগারে যাওয়াটা মানবিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা হবে এবং কুকুরছানা হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হবে।” ঈশ্বরদীয়ান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মুখপাত্র শাহরিয়ার অমিত বলেন, “হত্যাকারী নিশি রহমানের শাস্তি অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু শিশু নির্দোষ। তাকে জেলখানায় নেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়। গোটা দেশ ও বিশ্ব এই ঘটনায় নজর রেখেছে।” ঘটনার পটভূমি অনুযায়ী, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের কোণে ‘টম’ নামে একটি কুকুরের ৮টি ছানা জন্ম নেয়। তবে কিছুদিন আগে সেগুলো নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, নিশি রহমান রাতে ছানাগুলোকে বস্তায় বেঁধে উপজেলা পরিষদের পুকুরে ফেলে দেন। পরদিন সকালে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার পর রাতেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। নিশি রহমানের দাবি, “ছানাগুলোকে আমি সরাসরি মারার জন্য ফেলা হয়নি, শুধুমাত্র বাজারের একটি ব্যাগে রাখার সময় সম্ভবত তারা পুকুরে পড়ে যায়।” ঘটনার পর সন্তানহারা মা কুকুরটিকে ঈশ্বরদী স্বেচ্ছাসেবীরা নতুন ৪টি ছানা দিয়েছে। মা কুকুরটি নতুন ছানাগুলোকে দুধ খাওয়াচ্ছে ও আগলে রাখছে, যেন আগের ৮টি সন্তানের মতোই তাদের নিজের মতো করে নিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here