স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মৃতদেহ, প্রিয়জন খুঁজে ফিরছেন গাজার মানুষ

0
130

গাজার খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের এক সাদামাটা হলঘরে নীরবে বসে আছেন ডজনখানেক মানুষ। আলো-আঁধারির ঘেরাটোপে সবার চোখ স্থির সামনের বড় স্ক্রিনে—যেখানে একের পর এক ভেসে উঠছে বিকৃত, পচে-গলে যাওয়া মরদেহের ছবি। এই হলঘরের প্রতিটি মানুষ জানেন, গাজায় এখন ডিএনএ পরীক্ষার কোনো সরঞ্জাম নেই। তাই প্রিয়জনকে শনাক্ত করার একমাত্র উপায়—এই ভয়ংকর স্ক্রিনের দিকে নিরন্তর তাকিয়ে থাকা। কেউ খুঁজছেন কোনো চেনা মুখাবয়ব, কেউ কোনো পোশাকের অংশ—যে কোনো চিহ্ন, যা হয়তো নিশ্চিত করবে, ছবির দেহাবশেষটি তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনেরই। এটি এক অসহনীয়, কিন্তু অনিবার্য যন্ত্রণার প্রক্রিয়া। বাইরে তখনও চলছে মৃত্যু আর ধ্বংসের তাণ্ডব। গাজাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ইসরায়েলের ফেলা অসংখ্য অবিস্ফোরিত বোমা—যেগুলো খেলার মাঠে শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। কেউ আহত হচ্ছে ঘরে, কেউ খাদ্যের সন্ধানে গিয়ে, কেউবা কেবল বেঁচে থাকার চেষ্টাতেই হারাচ্ছে জীবন। এই চরম দুর্দশার মধ্যেও মানুষ ছুটে আসছে হাসপাতালের হলঘরে—প্রিয়জনদের শেষবারের মতো খুঁজে পেতে, বিদায় জানাতে। গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা শুরুর পর থেকে অন্তত ১০ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। অন্যদিকে, জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি এখনো ইসরায়েলি হেফাজতে—তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, কেউ জানে না। যুদ্ধবিরতি থাকলেও অব্যাহত অবরোধে ফরেনসিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষার যন্ত্র, গাজায় ঢুকতে পারছে না। ফলে মৃতদেহ শনাক্তের এই বেদনাময় প্রক্রিয়াও থেমে যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপের স্তব্ধতার সঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here