মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্নপূরণ!

0
246

লালচে পাহাড় আর নীলাভ আকাশ— যেন একেবারে মঙ্গলের বুক! এমনই এক অপূর্ব দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশের জিউচ্যাংয়ে। সেখানে মরুর মাঝে দাঁড়িয়ে আছে অত্যাধুনিক কিছু ক্যাপসুল, বেজ ক্যাম্প ও স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার— যা দেখতে হুবহু মঙ্গলগ্রহের মতো। পৃথিবী থেকে মঙ্গলগ্রহের গড় দূরত্ব প্রায় ৩৫ কোটি কিলোমিটার। কিন্তু চীন সেই দূরত্ব কমিয়ে এনেছে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে। মঙ্গলগ্রহে পা না রেখেই এখন পৃথিবীর বুকেই মঙ্গলে ঘোরার অভিজ্ঞতা নেওয়া সম্ভব। স্পেস সায়েন্স ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই ‘মার্স বেজ ওয়ান’ এখন হয়ে উঠেছে মহাকাশপ্রেমীদের স্বপ্নের গন্তব্য। গোবি মরুভূমির বুক চিরে গড়ে তোলা এই ভবিষ্যৎধর্মী বেজ ক্যাম্পের ইন্টেরিয়র ডিজাইনও যেন মহাকাশযানের ভেতরের প্রতিরূপ। এখানে দর্শনার্থীরা মহাকাশচারীদের যন্ত্রপাতি ঘুরে দেখা, স্পেস স্যুট পরে হাঁটার অভিজ্ঞতা নেওয়া কিংবা সিমুলেটেড রকেট লঞ্চ দেখতে পারেন। এক দর্শনার্থীর ভাষায়, “মহাকাশচারীরা কতটা কষ্টে কাজ করেন, এখানে এসে সেটা বুঝতে পেরেছি। মাথা ঘুরছিল, শরীর ভারী লাগছিল।” আরেকজন বলেন, “যদি মঙ্গল ও পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ পার্থক্য বোঝার মতো কোনো মেশিন থাকত, দারুণ হতো!” ৬৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ‘মার্স বেজ ওয়ান’-এ রয়েছে মঙ্গলযান ও রোভারের রেপ্লিকা, নক্ষত্র দেখার তাঁবু, থ্রিডি প্রিন্টেড মার্শিয়ান বাড়ি, এমনকি হাইড্রোপনিক চাষেরও ব্যবস্থা। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি এখন অ্যারোস্পেস শেখার বাস্তব ল্যাবরেটরি। বলতে গেলে, পৃথিবীর মাটিতেই এখন মঙ্গলে ঘোরা যায়— মাত্র ৩০ সেকেন্ডে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here