**বড় পতনে ৩ মাস আগে অবস্থায় ফিরল শেয়ারবাজার**

0
127

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বড় পতন দেখা গেছে। এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩ মাসের পর আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ ৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে পুঁজিবাজারে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি গুজব হলো মার্জিন ঋণ বিধিমালায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিবেচনা করা হয়নি। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও ব্রোকারেজ হাউস নিজেদের স্বার্থে মার্জিন ঋণ নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এর প্রভাবেই বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, “মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত একটি গোষ্ঠী সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে। যেখানে মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত আইন এখনও পাস হয়নি, সেখানে যারা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক। এসব গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত।” গতকাল ডিএসইতে ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা চলতি বছরের ২৫ জুনের পর সর্বনিম্ন। ওইদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। ডিএসইতে ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ৩১৪টির এবং ৩৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দর কমা শেয়ারগুলোর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৭৫টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭১টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৬৮টি শেয়ার ও ইউনিট রয়েছে। ফলে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৫ পয়েন্ট বা ১.৪৭ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এটি ৯ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। ওইদিন সূচকটি ৫ হাজার ৩৫ পয়েন্টে ছিল। অন্য সূচকগুলোতেও পতন দেখা গেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ২৪ পয়েন্ট বা ২.২১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট বা ১.৫১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৯৩৮ পয়েন্টে নেমেছে। দেশের অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ও সব সূচকে বড় পতন দেখা গেছে। যদিও অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর কমেছে, সার্বিক লেনদেন সামান্য বেড়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক (সিএসপিআই) ১৯৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ২৭৪ পয়েন্টে নেমেছে। সিএসসিএক্স সূচক ১১৪ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। সিএসইতে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে; এর মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, ১৩৪টির কমেছে এবং ১৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সার্বিক লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here