**চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারি, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে পরিবহন খাত**

0
222

চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবায় অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপের প্রতিবাদে পোর্ট ইউজার্স ফোরাম বন্দর বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ৪১ শতাংশ বাড়তি মাশুল নিয়ে আলোচনা ও সমাধান না হলে তারা বন্দর কার্যক্রম স্থগিত করবে। পাশাপাশি রবিবার (১৯ অক্টোবর) থেকে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনেরও ঘোষণা দিয়েছে ফোরামটি। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের টাইগারপাসের নেভি কনভেনশন হলে এক প্রতিবাদ সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, বিদেশিদের সুবিধা দিতে অযৌক্তিকভাবে ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়বে সারাদেশের পণ্যের দামে ও অর্থনীতিতে। পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী জানান, ট্যারিফ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। কিন্তু ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরের ব্যস্ততায় বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধান না এলে বন্দর বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হবে—এটা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সারা দেশের মানুষের আন্দোলন।” এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “৫০ পয়সার গেট পাস আজ ২৩০ টাকা! ড্রাইভারদের কাছ থেকেও টাকা নেওয়া হচ্ছে—এটা কোন সভ্য সমাজে হয়?” বিজিএমইএ নেতা এমএ সালাম বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। কোনো পরামর্শ ছাড়াই ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে—এটি সরকারের দ্বিচারিতা।” অন্য নেতারা বলেন, “প্রতি বছর আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা লাভ করে এমন প্রতিষ্ঠান কীভাবে স্টেকহোল্ডারদের না জানিয়ে ট্যারিফ বাড়ায়?” অন্যদিকে প্রবেশমূল্য প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে ১৮টি পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন। এতে বন্দরে প্রায় ৪৬ হাজার কনটেইনার আটকে গেছে। চট্টগ্রাম ট্রেইলার মালিক সমিতির সভাপতি মোর্শেদ হোসেন নিজামী বলেন, “৫৭ টাকা ৫০ পয়সার গেট-ফি বাড়িয়ে ২৩০ টাকা করা হয়েছে—এটা হঠাৎ ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।” পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকবে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই ট্যারিফ বাড়ানোর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থনীতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে—এটি কেবল বন্দর নয়, সারা দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সমাজের সংকট ডেকে আনবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here