গাজায় শান্তিরক্ষায় সৈন্য পাঠাতে পারে পাকিস্তান, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়া

0
139

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গঠিতব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে কোন দেশগুলো অংশ নেবে তা নিয়ে চলছে গভীর আলোচনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *দ্য পলিটিকো* জানিয়েছে, গাজায় পাকিস্তান, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়ার সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রতিবেদনে সক্রিয় ও সাবেক দুই মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই তিন দেশই এখন পর্যন্ত শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও এখনো কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি। পলিটিকোর তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়াই এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ যারা প্রকাশ্যে সৈন্য পাঠানোর আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জাতিসংঘের অনুমোদনে শান্তিরক্ষী মিশনের আওতায় প্রয়োজনে ২০ হাজার সেনা পাঠাতে তারা প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় জাতিসংঘের কোনো সরাসরি ম্যান্ডেট অন্তর্ভুক্ত নেই।  আরও জানা গেছে, কাতার, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সেনারাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে ইসরায়েলে একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থান করে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও পলিটিকো কোনো নির্দিষ্ট সূত্র উল্লেখ করেনি, ধারণা করা হচ্ছে—এই বাহিনীর মূল দায়িত্ব হবে সংঘাত রোধ, ত্রাণবাহী যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতি তদারকি করা। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণকে পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, “হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে—ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা বাধ্য হয়ে।”বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ম্যান্ডেট স্পষ্ট করা, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ভূমিকা নির্ধারণ এবং দ্রুত প্রস্তুতি শুরু করা। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ড্যানিয়েল শাপিরো বলেন, “যত দ্রুত ম্যান্ডেট ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করা যাবে, ততই পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।” উল্লেখ্য, গাজার দীর্ঘ দুই বছরের সংঘাত শেষে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এখন বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। কোন দেশ কীভাবে ভূমিকা নেবে এবং তাদের ম্যান্ডেট কী হবে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here