আইয়ুব আলী ত্রিমুখী প্রতারণার শিকারঃ “”ফাস্ট ফাইন্যান্স ও BTI-এর প্রতারণার ফাঁদে আইয়ুব আলী: সাবেক স্ত্রীর আঁতাত, ফ্ল্যাট দখলের চক্রান্ত ও আর্থিক অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র

By admin
6 Min Read

জিকু চৌধুরী, ঢাকার প্রতিনিধিঃ
আইয়ুব আলীর হৃদয় ভরা আজ শুধু একটাই আকুতি—ষড়যন্ত্রের জাল থেকে মুক্তি। যে নারী একসময় সংসারের সাথী ছিলেন, সেই নেহেরু নেছা লাভনীর বিশ্বাসঘাতকতা ও মিথ্যা মামলার বোঝা তাকে নিঃশ্বাস নিতে দিচ্ছে না। মৃত্যুর হুমকি, অপমান আর অমানবিক প্রতারণায় জর্জরিত হয়ে তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। তার আর্তনাদ যেন একটি সত্যিকারের মানুষের শেষ ভরসার ডাক। বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে সুশাসনের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের। অথচ সেই খাতেই বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অনিয়মের ভয়াবহ সব কাহিনি। এবার এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় বসবাসরত আইয়ুব আলী। তিনি অভিযোগ করেছেন— রাজধানীর গুলশান-০১-এর সুবাস্তু ইমাম স্কয়ারে অবস্থিত ফাস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (Fast Finance & Investment Ltd.) এবং বিখ্যাত হাউজিং প্রতিষ্ঠান বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিএস লিমিটেড (BTI) মিলে একটি প্রতারণামূলক চক্র পরিচালনা করছে। আর সেই চক্রে তারই সাবেক স্ত্রী মেহেরুন নেছা লাবনীও জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে, আইয়ুব আলী শুধু অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নন, বরং মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। প্রতারণার শিকার হওয়ার কাহিনি-আইয়ুব আলী জানান, তিনি ও তার সাবেক স্ত্রী মেহেরুন নেছা লাবনী যৌথভাবে ফাস্ট ফাইন্যান্স থেকে একটি ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণের উদ্দেশ্য ছিল BTI কর্তৃক বরাদ্দকৃত একটি ফ্ল্যাট ক্রয়। কিন্তু ঘটনার পরিণতি দাঁড়ায় সম্পূর্ণ ভিন্ন— ১. ঋণের পুরো অর্থ সরাসরি BTI-কে প্রদান করা হয়, অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী Mortgage Deed / Registered Agreement ছাড়া কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হাউজিং লোন অনুমোদন করতে পারে না। ২. ফ্ল্যাট তাদের নামে রেজিস্ট্রি হয়নি, মালিকানা থেকে তারা বঞ্চিত।
৩. অথচ ঋণগ্রহীতা হিসেবে দায়বদ্ধ করা হয়েছে শুধু আইয়ুব আলী ও লাবনীকে।
৪. পরে ফাস্ট ফাইন্যান্স অর্থ ঋণ আদালত আইন-২০০৩ এর আওতায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং রায়ও নেয়।
আইয়ুব আলীর মতে, এই লোন প্রসেসিং-এ স্পষ্টত Financial Institutions Act, 1993, অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের Prudential Guidelines for NBFIs লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইয়ুব আলীর অভিযোগপত্রে মূল অনিয়ম-
তিনি লিখিতভাবে উল্লেখ করেন—
Mortgage ছাড়াই লোন প্রদান: যা আইনের পরিপন্থী। BTI প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: টাকা নিয়েও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেনি। ফাস্ট ফাইন্যান্সের প্রতারণা: ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রায় আদায়।
যৌথ প্রতারণা: ফাস্ট ফাইন্যান্স ও BTI যৌথভাবে একটি প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিক্রিয়া-গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন—“Mortgage ছাড়াই হাউজিং লোন অনুমোদন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যদি সত্যিই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এটি গুরুতর অনিয়ম ও প্রতারণার শামিল। ফাস্ট ফাইন্যান্স ও সংশ্লিষ্ট হাউজিং কোম্পানি দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনের আওতায় আসবে।” তাদের মতে, এ ঘটনায় শুধু একজন গ্রাহক নন, বরং দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়েছে। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী লাবনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ- ঘটনার সবচেয়ে জটিল অধ্যায় হলো— আইয়ুব আলীর সাবেক স্ত্রী মেহেরুন নেছা লাবনীর ভূমিকা।
আইয়ুব আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন— ১. লাবনী তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ২. তালাকের পর তিনি নানা অপকর্ম ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। ৩. এখন BTI-এর সাথে আঁতাত করে তার বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করছেন। ৪. এজন্য আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৫. এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন—
“আমার সাবেক স্ত্রী লাবনী প্রথমে আমার কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছে। পরে তালাকের পর বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এখন ফাস্ট ফাইন্যান্স ও BTI-এর সহযোগিতায় আমার ফ্ল্যাট দখল করতে চাইছে। এ জন্য আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং আমার জীবনকে হুমকির মুখে ফেলা হচ্ছে।”
ফ্ল্যাট বিক্রির গোপন আঁতাত
বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব আলীর উদ্যোগে দুর্নীতি উন্মোচিত হওয়ার খবর জানার পর BTI গোপনে লাবনীর সাথে আঁতাত করে ওই ফ্ল্যাট অবৈধভাবে বিক্রি করার চক্রান্তে নেমেছে।
যদি এ লেনদেন সম্পন্ন হয়, তবে আইয়ুব আলী শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকারই হবেন না, বরং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়েও পড়বেন। আইনি লড়াই ও দুদকে অভিযোগ- আইয়ুব আলী ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি সেখানে ফাস্ট ফাইন্যান্স, BTI ও লাবনী—তিন পক্ষকে প্রতারণার জন্য দায়ী করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আদালতেও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।“আমি ভুক্তভোগী হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার সাবেক স্ত্রী, ফাস্ট ফাইন্যান্স এবং BTI মিলে আমার সম্পদ হাতিয়ে নিতে চাইছে। আমি হাল ছাড়ব না, এই প্রতারণার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত লড়ব।” —আইয়ুব আলী
আইনি দৃষ্টিকোণ-আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—Penal Code 420, 406, 409 অনুযায়ী প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ ও আত্মসাতের অপরাধ স্পষ্ট হয়েছে।
ফাস্ট ফাইন্যান্সের কার্যক্রম Financial Institutions Act, 1993 এর ধারা ১৮(১) এর লঙ্ঘন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন ভঙ্গ করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। লাবনীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা করা যেতে পারে।
সচেতন মহলের প্রতিক্রিয়া
সামাজিক মহল মনে করছে—
এটি কেবল আইয়ুব আলীর ব্যক্তিগত ক্ষতির বিষয় নয়। ফাস্ট ফাইন্যান্স ও BTI-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এভাবে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে, তবে দেশের আর্থিক খাতের প্রতি জনগণের আস্থা ধ্বংস হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদককে শুধু তদন্ত নয়, বরং উদাহরণযোগ্য শাস্তি দিতে হবে। আইয়ুব আলীর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে— দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও হাউজিং কোম্পানিগুলোতে এখনো স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ঘাটতি প্রবল। Mortgage ছাড়াই লোন অনুমোদন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, মিথ্যা মামলা, সাবেক স্ত্রীর আঁতাত— সব মিলিয়ে এটি একটি ভয়াবহ প্রতারণার কাহিনি। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক ও আদালত যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এ ধরনের প্রতারণা আরও অসংখ্য সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দেবে

Share This Article
Leave a Comment