যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার সকালে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তাঁদের ঢাকায় আনা হয়। বিমানটি সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান,
“শুরুর দিকে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে। তবে চূড়ান্তভাবে ৩৯ জন দেশে ফিরেছেন। তাঁদের সবার পরিচয় যাচাই করে গ্রহণ করা হয়েছে।”
ফেরত পাঠানোর প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করেছে।
বিশেষ করে যাঁরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন অবস্থান করছিলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কিংবা আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েননি—এমন ব্যক্তিদের টার্গেট করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অবস্থা
ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করতেন। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন, আবার কেউ কেউ অনুপ্রবেশের পর গোপনে বসবাস করছিলেন।
ঢাকায় অবতরণের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহণ করে। যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি অভিযোগ নেই, তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে অধিকতর তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে।
সরকারি প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন,
“প্রবাসে অবস্থান করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলা জরুরি। অবৈধভাবে যেকোনো দেশে প্রবেশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকার ফেরত আসা নাগরিকদের গ্রহণ করছে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা
এর আগেও ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিক দফায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুধু গত দুই বছরেই মোট চারটি চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রায় ১৫০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মত
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে কড়া অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এ ধরণের ফেরত পাঠানো আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
“অবৈধ পথে বিদেশে গমন শুধু নিজের নয়, দেশের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
এই ধরনের ফেরত পাঠানোর ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অভিবাসন আইন সম্পর্কে প্রচার এবং দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।