এক হৃদয়বিদারক রাতে, জীবন নামের অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠায় লিখে গেলেন বিদায়ের পংক্তি—সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলামের বড় ভাই মো. নাজিম উদ্দীন আর আমাদের মাঝে নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২:৪৫ টায় চট্টগ্রামের লোহাগড়া
বটতলী এলাকার নিজ বাসায় আকস্মিকভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হঠাৎ প্রেসার লো হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নেওয়া হয় বটতলীস্থ নতুন সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরহুম মো. নাজিম উদ্দীন দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে ওমান প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রবাসজীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি পরিবার ও স্বজনদের জন্য নিরলস শ্রম দিয়েছেন। দেশে ফিরে মাত্র ১৫ দিন আগেই পরিবারের কাছে ফিরে এসেছিলেন এক আনন্দঘন উপলক্ষ নিয়ে—নিজ কন্যা মিষ্টি মনি’র বিয়ে। বিয়েটি হয় আনন্দ, অতিথি, আলোকসজ্জা আর ভালোবাসার এক মিলনমেলায়। কিন্তু বিয়ের সেই আনন্দের মাত্র দুই দিনের মাথায়, সমস্ত আয়োজন যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল এক শোকের ছায়ায়।
মরহুমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার এক সম্মানিত পরিবারে। সেখানেই রয়েছে তাঁর শৈশবের স্মৃতি, আত্মীয়-পরিজন আর হাজারো ভালোবাসার মানুষ। আজ সেই প্রিয় গ্রামে ফিরছেন তিনি—তবে নিথর দেহে, অশ্রুপ্লুত সবার অন্তিম ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হবার জন্য।
সাংবাদিক মো. সাইফুল ইসলাম, যিনি নিজেও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম চালান, আজ নিজ পরিবারে এই ভয়াবহ শোকের ভার বইছেন। একদিকে বড় ভাইয়ের হঠাৎ মৃত্যু, অন্যদিকে সদ্য বিবাহিত ভাতিজির মুখ—এ যেন হৃদয় বিদীর্ণ করার মতো এক বাস্তবতা।
আমরা, দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও সময়ে আলো পত্রিকার পরিবার, গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম ও তাঁর সমগ্র পরিবারকে।
আমরা সবাই মরহুম মো. নাজিম উদ্দীনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং সকলকে অনুরোধ জানাই—তিনি যদি কারও সঙ্গে জীবনে কোন ভুল করে থাকেন, তা যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে গ্রহণ করেন।
“হে আমার পালনকর্তা! আপনি তাদের (অভিভাবকদের) প্রতি রহম করুন, যেমন করে তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছিলেন।”
শান্তিতে ঘুমান, মো. নাজিম উদ্দীন।
আপনার নিষ্ঠা, শ্রম, ভালোবাসা—সবই থাকবে আমাদের হৃদয়ের গভীরে।
এই মৃত্যু হোক ক্ষমার, এই বিদায় হোক জান্নাতের পথে আলোকিত যাত্রা।