বিএনপি দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত — চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এরশাদ উল্লাহ””

13 Min Read

মো.কামাল উদ্দিনঃ
“আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত, জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই”
১০ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হলো সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে হঠাৎ করেই এক জরুরি রাজনৈতিক প্রয়োজনে তাঁকে দ্রুত লন্ডন রওনা দিতে হওয়ায় তিনি সভায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর এই আকস্মিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানের ভাবগম্ভীরতা বা গুরুত্ব এতটুকুও ব্যাহত হয়নি। কারণ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও মতামতের মাধ্যমে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়, তা ছিল সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও জনঅধিকার নিয়ে গভীর ভাবনার উস্কানি দেওয়া। প্রেস ক্লাবের এই আয়োজন শুধু মতবিনিময় নয়—এটি হয়ে উঠেছিল মুক্ত মতের এক সম্মেলন, যেখানে প্রশ্ন ছিল নির্মোহ, উত্তর ছিল দায়িত্বশীল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে যে অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, তারা এখনও নানা ছলচাতুরিতে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ও দেশের পক্ষের শক্তি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সচেষ্ট।” তিনি মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৮ম তলায় “জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে” চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “বিএনপি অতীতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় দলটি আপসহীন। গত জুলাই-আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনের পর বিএনপি আবারও রাজপথ কাঁপিয়েছে। দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকেই বিজয়ী করবে — এটাই আজ স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা করছে। এই অপচেষ্টা সফল হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে জাতির ঘাড়ে পুনরায় পতিত আওয়ামী লীগের মত একটি গণবিচ্ছিন্ন শক্তিকে চাপিয়ে দেওয়ার পথ খুলে যাবে।”
মাফিয়া শাসনের সমালোচনা
বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া সরকার’ উল্লেখ করে বলেন, “বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকা সরকার দেশকে আমদানি নির্ভর, ঋণ নির্ভর ও পর নির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকতে শুধু নিজেদের সম্পদ গড়েছে, আর জনগণকে ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি বিশ্বে বাংলাদেশকে কখনো জঙ্গি রাষ্ট্র, কখনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই চক্রান্তের হোতা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্য ও অন্যান্য বক্তা
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। গণমাধ্যমের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং বৈশাখী টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ। সূচনায় কোরআন তেলাওয়াত করেন নিউজগার্ডেন সম্পাদক কামরুল হুদা।
বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “পলাতক স্বৈরাচার ১৫ বছর ধরে দুঃশাসনের যে যন্ত্রণা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে, আজও তা বহন করতে হচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এই বার্তাই দিয়েছে — দেশকে রক্ষা করতে হলে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বৃহত্তর ঐক্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিএনপি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ওসমান গণি মনসুর, মুস্তফা নাঈম, রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এনাম হায়দার, এমরান এমি, ইভান মির প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, মোহাম্মদ জাফর, নূর উদ্দিন নুরু, এম এ সবুর, আবু মুসা সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মো.কামাল উদ্দিনঃ
“আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত, জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই”
১০ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হলো সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে হঠাৎ করেই এক জরুরি রাজনৈতিক প্রয়োজনে তাঁকে দ্রুত লন্ডন রওনা দিতে হওয়ায় তিনি সভায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর এই আকস্মিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানের ভাবগম্ভীরতা বা গুরুত্ব এতটুকুও ব্যাহত হয়নি। কারণ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও মতামতের মাধ্যমে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়, তা ছিল সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও জনঅধিকার নিয়ে গভীর ভাবনার উস্কানি দেওয়া। প্রেস ক্লাবের এই আয়োজন শুধু মতবিনিময় নয়—এটি হয়ে উঠেছিল মুক্ত মতের এক সম্মেলন, যেখানে প্রশ্ন ছিল নির্মোহ, উত্তর ছিল দায়িত্বশীল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে যে অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, তারা এখনও নানা ছলচাতুরিতে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ও দেশের পক্ষের শক্তি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সচেষ্ট।” তিনি মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৮ম তলায় “জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে” চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “বিএনপি অতীতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় দলটি আপসহীন। গত জুলাই-আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনের পর বিএনপি আবারও রাজপথ কাঁপিয়েছে। দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকেই বিজয়ী করবে — এটাই আজ স্পষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা করছে। এই অপচেষ্টা সফল হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে জাতির ঘাড়ে পুনরায় পতিত আওয়ামী লীগের মত একটি গণবিচ্ছিন্ন শক্তিকে চাপিয়ে দেওয়ার পথ খুলে যাবে।”
মাফিয়া শাসনের সমালোচনা
বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া সরকার’ উল্লেখ করে বলেন, “বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকা সরকার দেশকে আমদানি নির্ভর, ঋণ নির্ভর ও পর নির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকতে শুধু নিজেদের সম্পদ গড়েছে, আর জনগণকে ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি বিশ্বে বাংলাদেশকে কখনো জঙ্গি রাষ্ট্র, কখনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই চক্রান্তের হোতা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্য ও অন্যান্য বক্তা
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। গণমাধ্যমের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং বৈশাখী টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ। সূচনায় কোরআন তেলাওয়াত করেন নিউজগার্ডেন সম্পাদক কামরুল হুদা।
বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “পলাতক স্বৈরাচার ১৫ বছর ধরে দুঃশাসনের যে যন্ত্রণা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে, আজও তা বহন করতে হচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এই বার্তাই দিয়েছে — দেশকে রক্ষা করতে হলে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বৃহত্তর ঐক্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিএনপি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ওসমান গণি মনসুর, মুস্তফা নাঈম, রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এনাম হায়দার, এমরান এমি, ইভান মির প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, মোহাম্মদ জাফর, নূর উদ্দিন নুরু, এম এ সবুর, আবু মুসা সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মো.কামাল উদ্দিনঃ
“আওয়ামী দুঃশাসনে দেশ ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত, জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই”
১০ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হলো সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে হঠাৎ করেই এক জরুরি রাজনৈতিক প্রয়োজনে তাঁকে দ্রুত লন্ডন রওনা দিতে হওয়ায় তিনি সভায় স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর এই আকস্মিক অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানের ভাবগম্ভীরতা বা গুরুত্ব এতটুকুও ব্যাহত হয়নি। কারণ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পক্ষে তাঁর বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও মতামতের মাধ্যমে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়, তা ছিল সময়োপযোগী, তথ্যসমৃদ্ধ এবং গণতন্ত্র ও জনঅধিকার নিয়ে গভীর ভাবনার উস্কানি দেওয়া। প্রেস ক্লাবের এই আয়োজন শুধু মতবিনিময় নয়—এটি হয়ে উঠেছিল মুক্ত মতের এক সম্মেলন, যেখানে প্রশ্ন ছিল নির্মোহ, উত্তর ছিল দায়িত্বশীল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানে যে অপশক্তি পরাজিত হয়েছে, তারা এখনও নানা ছলচাতুরিতে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ও দেশের পক্ষের শক্তি সেই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সচেষ্ট।” তিনি মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৮ম তলায় “জুলাই-বিপ্লব স্মৃতি হলে” চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এরশাদ উল্লাহ বলেন, “বিএনপি অতীতে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় দলটি আপসহীন। গত জুলাই-আগস্টে সরকার পতনের আন্দোলনের পর বিএনপি আবারও রাজপথ কাঁপিয়েছে। দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুযোগ পেলে জনগণ বিএনপিকেই বিজয়ী করবে — এটাই আজ স্পষ্ট।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা করছে। এই অপচেষ্টা সফল হলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে জাতির ঘাড়ে পুনরায় পতিত আওয়ামী লীগের মত একটি গণবিচ্ছিন্ন শক্তিকে চাপিয়ে দেওয়ার পথ খুলে যাবে।”
মাফিয়া শাসনের সমালোচনা
বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া সরকার’ উল্লেখ করে বলেন, “বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকা সরকার দেশকে আমদানি নির্ভর, ঋণ নির্ভর ও পর নির্ভর একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। তারা ক্ষমতায় থাকতে শুধু নিজেদের সম্পদ গড়েছে, আর জনগণকে ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি বিশ্বে বাংলাদেশকে কখনো জঙ্গি রাষ্ট্র, কখনো সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই চক্রান্তের হোতা এখন দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”
সভাপতির বক্তব্য ও অন্যান্য বক্তা
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও প্রবীণ সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। গণমাধ্যমের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং বৈশাখী টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান গোলাম মওলা মুরাদ। সূচনায় কোরআন তেলাওয়াত করেন নিউজগার্ডেন সম্পাদক কামরুল হুদা।
বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “পলাতক স্বৈরাচার ১৫ বছর ধরে দুঃশাসনের যে যন্ত্রণা জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে, আজও তা বহন করতে হচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এই বার্তাই দিয়েছে — দেশকে রক্ষা করতে হলে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী শক্তিকে বৃহত্তর ঐক্যে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বিএনপি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ এম এ আজিজ, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, এস এম সাইফুল আলম, সফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শাহ আলম, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন ওসমান গণি মনসুর, মুস্তফা নাঈম, রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এনাম হায়দার, এমরান এমি, ইভান মির প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল বালি, মোহাম্মদ জাফর, নূর উদ্দিন নুরু, এম এ সবুর, আবু মুসা সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Share This Article
Leave a Comment