মা,
তুমি নেই আজ বহু বছর।
তবুও কোরবানির এই ঈদ এলে মনটা কেমন করে যেন ছিঁড়ে যায়।
তোমার হাতে রান্না করা সেই কালাভুনার গন্ধ,
ঈদের সকালে ঘুম ভাঙানোর ডাক,
গরু জবাইয়ের আগের তোমার কেঁপে যাওয়া চোখ দুটো—সব যেন এখনো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে,
কিন্তু তুমি নেই।
তোমার চলে যাওয়া মানেই তো আমার সব ঈদ ফাঁকা হয়ে যাওয়া।
এই যে আজ প্রবাসে বসে গরু জবাই হলো, সবাই হাসছে, ছবি তুলছে, খাবার খাচ্ছে—
আর আমি এক কোণে দাঁড়িয়ে তোমার কথা ভেবে কাঁদছি।
তুমি থাকলে হয়তো বলতে—“বাবা, কাঁদিস না, ঈদের দিন মন খারাপ করে না।”
কিন্তু মা, তুমি বুঝো তো, তুমি না থাকলে মন ভালো থাকে কীভাবে?
শুধু ঈদের দিন নয় মা,
তুমি চলে যাওয়ার পর প্রতিটা দিনই একেকটা কোরবানির দিন আমার জন্য।
আমি প্রতিদিন কোরবানি দিই—তোমার না থাকার শূন্যতা বুকে চেপে রাখি,
প্রতিদিন তোমার কণ্ঠ খুঁজি, তোমার ছোঁয়া খুঁজি, সেই স্নেহময় চোখদুটো খুঁজি।
কিন্তু পাই না।
ফোন করেও আর “ঈদ মোবারক মা” বলা যায় না,
ভিডিও কলে আর দেখা যায় না তোমার সেই ঈদের সকালে মাথায় ওড়না দিয়ে চা হাতে আসা মুখটা।
মা, তুমি জানো?
তোমার হাতের এক কাপ চা ছিল আমার ঈদের শুরু।
আজ সেই শুরু আর হয় না।
শুরু হয় শুধু দীর্ঘশ্বাস দিয়ে,
গরুর রক্তে পা না ভিজিয়ে, চোখে জল লুকিয়ে।
তোমার শূন্যতা এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কোরবানি।
তুমি চলে যাওয়ার পর, ঈদের দিনে হাসতেও ভয় লাগে, মনে হয় বেইমানি করছি।
তোমার হাতে খাওয়ার সেই সেমাইয়ের স্বাদ আজও পাই না কোথাও,
তোমার গলায় বলা “বাবা, খেয়ে নে”—এই শব্দটাই এখন আমার জান্নাতের ডাক মনে হয়।
মা, জানো?
আজ ঈদের নামাজের পর যখন সিজদায় গিয়েছি, কাঁপতে কাঁপতে শুধু তোমার জন্য দোয়া করেছি।
বলেছি—“হে আল্লাহ, আমার মা যেন জান্নাতের সব থেকে ঠাণ্ডা জায়গায় থাকে,
যেখানে কষ্ট নেই, দুঃখ নেই, শুধু শান্তি আর তোমার রহমত আছে।”
মা, আমি জানি তুমি শুনতে পাচ্ছো।
তোমার কবরে যখন সবাই ভুলে গেছে, আমি প্রতিদিন মনে করি,
তোমার প্রতিটা হাসি, প্রতিটা আদর এখনো বেঁচে আছে আমার হৃদয়ে।
তুমি হয়তো দূরে আছো, কিন্তু আমার কাছে আছো—
প্রতিটা নিঃশ্বাসে, প্রতিটা অশ্রুতে,
এই একলা প্রবাসে তোমারই স্মৃতি আমার ঘর আলোকিত করে।
মা, ঈদ মোবারক।
তুমি যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।
তোমার ছেলের হৃদয়ে তুমি বেঁচে আছো—আজীবন।
—তোমার রবিউল
দূর দেশের নিঃসঙ্গ ঈদে,
মৃত মায়ের অমর ভালোবাসায় সিক্ত এক সন্তান।