মো.কামাল উদ্দিনঃ
এক দেশে অদ্ভুত এক নিয়ম ছিল। যারা বার্ধক্যে উপনীত হয়ে কাজ করতে অক্ষম হয়ে পড়ত, তাদের পাহাড়ে ফেলে আসতে হতো। ওই দেশের রাজা মনে করতেন, বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বোঝা কমালে সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হয়ে যাবে।
সেই দেশে এক পিতা পুত্র খুব ভালোবাসত একে অপরকে। সময় গড়িয়ে গেল। পিতা বুড়ো হলেন, তিনি আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দেশের নিয়ম অনুযায়ী, ছেলেকে বাধ্য হয়ে তাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে। কিন্তু বাবাকে ছেড়ে থাকতে পারার কথা ছেলে ভাবতেই পারছিল না। তবু, শাস্তির ভয়ে সে বাবাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিল।
পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে তার মন কেঁদে উঠল। শেষ পর্যন্ত বাবাকে সেখানে রেখে আসতে পারল না। সে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলো এবং বাড়ির পিছনে লুকিয়ে রাখল। প্রতিদিন চুপিচুপি খাবার এনে তাকে খাওয়াতে লাগল।
একদিন রাজা তার প্রজাদের বুদ্ধি পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি ঘোষণা করলেন: “যে ছাই দিয়ে দড়ি বুনে এনে দিতে পারবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে!”
ঘোষণা শুনে লোকজন হতভম্ব হয়ে গেল। ছাই দিয়ে কি কখনও দড়ি তৈরি করা সম্ভব? ছেলেটি এই ধাঁধার কথা শুনে বাবাকে বলল। বাবা বললেন, “একটা দড়ি নিয়ে বড় পাত্রে পেঁচিয়ে রাখো, তারপর সেটা জ্বালিয়ে দাও।”
ছেলে বাবার কথা মতো কাজ করল। দড়ি পুড়ে গেল, কিন্তু তার ছাই ঠিক আগের মতো দড়ির আকারেই থেকে গেল। সে সেটি রাজাকে দেখাল এবং পুরস্কার জিতে নিল।
এক মাস পর, রাজা দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করলেন। তিনি একটি কাঠের ডাল দিলেন এবং বললেন, “এর আগা আর গোড়ার খুঁজে বের করো!”
ডালের দু’প্রান্ত দেখতে একই রকম ছিল, তাই কেউই এর উত্তর খুঁজে পেল না। ছেলে কাঠের ডালটি বাড়িতে এনে বাবাকে দেখাল। বাবা বললেন, “ডালটি পানিতে রাখো। যেটি বেশি ডুবে যাবে, সেটি গোড়া, আর যেটি ভেসে থাকবে, সেটি আগা।”
ছেলে বাবার উপদেশ মতো কাজ করল এবং রাজাকে দেখিয়ে আবারও পুরস্কার জিতল।
এরপর রাজা আরও কঠিন এক ধাঁধা দিলেন। তিনি বললেন, “একটি ঢোল তৈরি করো, যা কোনো আঘাত ছাড়াই শব্দ করবে!”
এবার সবার মাথা ঘুরে গেল। কেউই এমন ঢোল বানানোর উপায় খুঁজে পেল না। ছেলে আবার বাবার শরণাপন্ন হলো। বাবা বললেন, “একটি ঢোল তৈরি করে তার ভেতরে একটি মৌমাছির চাক রাখো।”
ছেলে বাবার নির্দেশ মতো ঢোল বানিয়ে রাজাকে দিল। রাজা ঢোলটি হাতে নিয়ে নাড়া দিতেই এর ভেতরের মৌমাছিরা উড়তে লাগল, ফলে ঢোলে আঘাত ছাড়াই শব্দ হতে লাগল!
রাজা বিস্মিত হয়ে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কীভাবে এত কঠিন প্রশ্নের উত্তর পেলে?”
ছেলে বলল, “মহারাজ, আমার নিজের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমার বৃদ্ধ বাবাই সব উত্তর দিয়েছেন।”
ছেলের কথা শুনে রাজা খুবই নরম হয়ে গেলেন। তিনি উপলব্ধি করলেন, জীবনের কঠিন সমস্যার সমাধান বের করতে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে মূল্যবান।
রাজা সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করলেন, “আজ থেকে আর কোনো বৃদ্ধকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হবে না!” এরপর থেকে সকল বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পরিবারের সঙ্গেই আনন্দে থাকতে লাগলেন।
শিক্ষা: অভিজ্ঞতা অমূল্য। বয়স্করা আমাদের জীবনের আশীর্বাদ। তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের দায়িত্বই নয়, বরং এটা আমাদের সৌভাগ্য।এক দেশে একসময় এক অদ্ভুত নিয়ম চালু ছিল—যে কেউ বৃদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারত না, তাকে পাহাড়ে ফেলে আসতে হতো। রাজা মনে করতেন, বৃদ্ধদের যত্ন নেওয়ার ঝামেলা কমলে তরুণদের জীবন সহজ হবে। কিন্তু এক ছেলে তার বাবাকে পাহাড়ে ফেলতে গিয়ে পারেনি। সে তাকে লুকিয়ে রাখে, আর বাবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বারবার রাজাকে কঠিন ধাঁধার উত্তর দিয়ে চমকে দেয়। শেষে রাজা বুঝতে পারেন, বয়স্কদের অভিজ্ঞতা কত মূল্যবান, আর সেই নিষ্ঠুর নিয়ম বাতিল করে দেন।
এই গল্পের সঙ্গে আজকের রাজনীতির মিল খোঁজ করলে, চোখে পড়ে—আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও যেন অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন ভুলে গেছে।
বর্ষীয়ান নেতাদের আজ শুধু বয়সের জন্য অবহেলা করা হয়। তারা যেন বোঝা হয়ে উঠেছেন দলের চোখে। অথচ এঁরা হচ্ছেন সেই মানুষ, যাঁরা আন্দোলনের মাঠে, সংগ্রামের রাস্তায়, রাষ্ট্রগঠনের প্রতিটি পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন তাঁদের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর দূরদর্শিতা পাশ কাটিয়ে শুধু চাটুকার আর সুযোগসন্ধানী তরুণদের হাতেই তুলে দেওয়া হচ্ছে দায়িত্ব।
ফলে কী হচ্ছে?
রাজনীতিতে পরিণত চিন্তার অভাব দেখা দিচ্ছে। হঠাৎ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে—যার কোনো ফলদায়ক দিক নেই। মন্ত্রীরা মুখ খুললেই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, দলের ভেতরে ভাঙন দেখা যাচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কারণ অভিজ্ঞতার স্থানে বসানো হচ্ছে উৎসাহী কিন্তু অপরিণত মনের মানুষকে।
ঠিক যেমন সেই গল্পে ছেলেটি বারবার তার বাবার অভিজ্ঞতায় বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল, তেমনি রাজনীতিতেও অভিজ্ঞ নেতাদের উপদেশে, পরামর্শে দেশ ও দল সঠিক পথ পেতে পারে।
আজ আমাদের প্রয়োজন সেই নেতাদের যারা শুধু জোরে কথা বলেন না, বরং চিন্তা করে কথা বলেন। যারা হঠাৎ হঠাৎ রেগে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না, বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। এঁরাই হলেন আমাদের রাজনীতির মূল স্তম্ভ।
রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সহনশীলতা ও সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মানুষের জ্ঞান।
তাই আজ সময় এসেছে অভিজ্ঞদের ফেরানোর। ভুলে গেলে চলবে না—বৃদ্ধ মানেই বোঝা নয়, তাঁরা হলেন চলার পথে আলো। যাঁরা পথ চিনিয়ে দিতে পারেন, বিপদের দিশা দেখাতে পারেন, আর রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে পারেন তার হারিয়ে ফেলা মর্যাদা।
শ
রাজনীতিতে অভিজ্ঞদের গুরুত্ব অবমূল্যায়ন করা মানে একটি জাতিকে চোখ বেঁধে পথ চলতে বাধ্য করা। সময় এসেছে—এই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার, এবং রাজনীতিকে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির ভারসাম্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
রাজনীতি কোনো নির্দিষ্ট বয়স বা অভিজ্ঞতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক বহুমাত্রিক পথ, যেখানে প্রয়োজন হয় দূরদর্শিতা, সাহস, ত্যাগ, জ্ঞান, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সবচেয়ে বড় কথা—জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। তবে বারবার একটি প্রশ্ন উঠে আসে—এই বহুমাত্রিক রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কারা? দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রামে অংশ নেওয়া, অভিজ্ঞ এক বয়স্ক রাজনীতিক, না কি তরুণ বয়সে সাহসিকতায় রাজপথ কাঁপানো এক সংগ্রামী যুবা?
প্রবীণ রাজনীতিকদের ভূমিকা
প্রবীণ রাজনীতিকেরা সাধারণত রাজনীতির বিভিন্ন বাঁক, সংকট ও উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছেন। তাদের রয়েছে ঐতিহাসিক চেতনা, রাজনৈতিক পরিপক্বতা, এবং দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। তারা জানেন কখন প্রতিবাদ করতে হয়, আর কখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হয়। তারা রাজনীতিকে দেখেন একটি বৃহৎ প্রেক্ষাপটে—যেখানে জনগণের জীবনমান, অর্থনীতি, কূটনীতি, আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো সব কিছুই সমন্বিত।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এলেও তিনি একজন পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে দেশ পরিচালনা করেছেন। তেমনি দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘদিন কারাগারে থেকেও রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। বয়স ও অভিজ্ঞতা তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অপরাজেয় করেছেন।
অভিজ্ঞ রাজনীতিকের কাছে থাকে দীর্ঘদিনের কর্মসূচির বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষমতা, এবং সবচেয়ে বড় কথা, ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা আবেগ নয়—তিনি নেতৃত্ব দেন যুক্তির ভিত্তিতে।
তরুণদের রাজনীতিতে আগমন ও প্রভাব
অন্যদিকে তরুণরা রাজনৈতিক মাঠে আনে গতি, প্রাণ এবং সাহস। তারা সহজে ভয় পায় না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার শক্তি রাখে। রাজপথের আন্দোলনে তাদেরই পদচারণ সবচেয়ে বেশি। একটি নিরব জনসমাজকে জাগিয়ে তুলতে যে প্রজ্জ্বলিত আগুন দরকার—তা জোগায় তারুণ্য। এই তারুণ্যের শক্তি বারবার ইতিহাস বদলেছে।
বাংলাদেশে ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন—সবখানেই তরুণদের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তাদের বলিষ্ঠ কণ্ঠ ও রক্ত দিয়ে তারা রাজনীতিকে দিয়েছে শক্তি, দিয়েছে নতুন দিক।
তবে এটিও সত্য, শুধুমাত্র রাজপথ কাঁপানো বা আবেগ দিয়ে রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যদি তরুণদের এই উদ্যম রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতায় দিকভ্রান্ত হয়, তবে আন্দোলন হয়ে পড়ে উদ্দেশ্যহীন। তাই তারুণ্যের শক্তিকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ নেতার উপস্থিতি অপরিহার্য।
দুই প্রজন্মের সমন্বয়ই সত্যিকার নেতৃত্ব গড়ে
তরুণ ও প্রবীণের মধ্যে তুলনা না করে, বরং তাদের পারস্পরিক সম্পূরকতার দিকেই নজর দেওয়া উচিত। রাজনীতি তখনই সফল হয়, যখন অভিজ্ঞরা তরুণদের পথ দেখায় এবং তরুণরা অভিজ্ঞদের শক্তি জোগায়। একে অন্যকে বাদ দিয়ে রাজনীতি এগোতে পারে না।
একজন প্রবীণ নেতা যদি তরুণদের পাশে না পান, তবে তার আদর্শ বিস্তৃত হয় না। আবার তরুণরা যদি অভিজ্ঞ নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তারা শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে, কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, এক সময় জাতীয় রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবীণ নেতাদের কর্তৃত্ব ছিল, কিন্তু সেই প্রবীণরা অনেকেই তরুণ নেতৃত্বকে জায়গা দেননি। ফলে রাজনীতিতে সংকট দেখা দিয়েছে, দলগুলো হয়েছে একজন কেন্দ্রিক, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র হারিয়ে ফেলেছে। আবার অনেক তরুণ নেতা শুধুই শক্তি প্রদর্শনে মত্ত হয়ে মূলনীতি ভুলে গিয়ে ‘নায়ক’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।
সমাজ ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যৌথ ভূমিকা
একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন হয় অভিজ্ঞতার আলো ও তারুণ্যের আগুন—দুইয়ের মিশেল। একজন প্রবীণ রাজনীতিক সমাজের অবস্থা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করতে পারেন, আর একজন তরুণ সেই রূপরেখাকে বাস্তবায়নে মাটির ঘ্রাণ নিয়ে মাঠে নামে।
বর্তমান বিশ্বে আমরা এর সফল উদাহরণও দেখতে পাই। ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী তরুণদের সুযোগ দিয়েছিলেন, তাই তিনি ছিলেন সব প্রজন্মের নেতা। আবার যুক্তরাষ্ট্রে বারাক ওবামা তারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠলেও তিনি ছিলেন প্রবীণ নেতাদের পরামর্শ গ্রহণে সদা প্রস্তুত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনও ছিল অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ ছাত্রদের একত্রিত প্রয়াসের ফল।
উপসংহার
সুতরাং, প্রশ্নটা হওয়া উচিত না—“কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?” বরং প্রশ্নটা হওয়া উচিত—“কিভাবে তরুণ ও প্রবীণের শক্তিকে একত্রে কাজে লাগানো যায়?” কারণ একা কেউ রাজনীতিকে সামনের দিকে টেনে নিতে পারে না। রাজনীতি হলো বহমান নদীর মতো, যেখানে অভিজ্ঞতা হলো নদীর গভীরতা, আর তারুণ্য হলো এর স্রোত। একটির অভাবে অন্যটি নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে।
তাই রাজনীতির সফল ভবিষ্যতের জন্য দরকার বিজ্ঞ অভিজ্ঞ বয়স্কার দূরদৃষ্টি ও রাজপথ কাঁপানো তরুণের সাহস—যে নেতৃত্বে থাকবে প্রজ্ঞা, আদর্শ ও জনগণের জন্য ভালোবাসা।