জাতীয় দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক, খ্যাতিমান লেখক ও সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে
চরণদ্বীপ নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর পারিবারিক কবরস্থান দখলে পায়তারা চালাচ্ছে মর্মে সম্প্রতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় দৈনিক ভোরের আওয়াজ
পত্রিকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। নজর মোহাম্মদ সমাজের কবর স্হান
রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলনে
সাংবাদিক কামাল উদ্দিন নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর ওয়ারিশ হিসেবে উপস্থিত থেকে কবর স্হান নিয়ে পায়তারাকারি
হাজী আব্দুল মোনাফ সওদাগরের বাড়ির কিছু সদস্যদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াই আইনজীবী এডভোকেট রিয়াজুর রহমান, সাংবাদিক কামাল উদ্দিনকে “ভুয়া সাংবাদিক”, টাউট “চাঁদাবাজ” ও “আওয়ামী সন্ত্রাসী” বলে আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া কবরস্থানকে ঘিরে পূর্ববর্তী একটি বিরোধের প্রেক্ষাপটে মো. কামাল উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অবমাননাকর ও অপমানজনক বক্তব্য প্রদান করা হয়।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে পত্রিকার অবস্থান
এ প্রসঙ্গে দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল আল মামুন (মামুন ঠাকুর) এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিন পেশাগতভাবে একজন সৎ, নিষ্ঠাবান এবং নির্ভীক লেখক। তিনি তিরিশটিরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা, পেন ইন্টারন্যাশনালের সদস্য এবং চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তা একেবারেই ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিক সমাজকে অপমান করার শামিল।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একজন আইনজীবী কীভাবে তথ্য যাচাই না করেই এমন গুরুতর অভিযোগ সংবাদ পত্রের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচার করেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”
আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
দৈনিক ভোরের আওয়াজ কর্তৃপক্ষ জানায়, যদি অভিযুক্ত আইনজীবী রিয়াজুর রহমান ও তাঁর মক্কেলরা তাঁদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে। পাশাপাশি বার কাউন্সিল এবং চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নিকটও এ বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হবে।
সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে মো. কামাল উদ্দিন নিজেও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে লেখালেখি করে আসছি। সে কারণে অনেকেই বিরাগপ্রকাশ করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু সত্যের কলম থামানো যাবে না। আমি আইনের প্রতি আস্থা রাখি এবং সঠিক সময়ে এর জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো দলে নিবন্ধিত নই, তবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন, ইতিহাস, ও গণমানুষের কথা বলতেই আমি কলম ধরেছি। যারা আমার এই অবস্থানকে হুমকি মনে করছে, তারাই এখন মিথ্যা প্রচারে নেমেছে।”
সমাজের বিশিষ্টজনদের প্রতিক্রিয়া
চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংবাদিক, লেখক, এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে গিয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তারা গণতন্ত্রের শত্রু। এমন ঘৃণিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়াতে হবে।” সাংবাদিকতা মানে সত্যের পথে চলা। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে সম্মানহানি করা হলে, তার জবাব আইনের মাধ্যমেই দিতে হবে—এমনটাই মতামত দিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিক মো. কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে চালানো অপচেষ্টা যে ব্যর্থ হবে, তা সময়ই প্রমাণ করবে।