
-মো.কামাল উদ্দিনঃ সম্মানিত সভাপতি, এ্যাড ভিশন বাংলাদেশের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, পরিবেশবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, লেখক, সুধীজন এবং প্রিয় উপস্থিত সবাই, আসসালামু আলাইকুম। গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের মুরাদপুরের বারকোড রেস্তোরাঁয় পরিবেশবাদী সংগঠন এ্যাড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত “জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষা” শীর্ষক সেমিনারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এবং লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক হিসেবে প্রধান বক্তা হওয়ার সুযোগ আমার জন্য নিঃসন্দেহে সম্মানের। তবে তার চেয়েও বড় কথা, এটি ছিল প্রকৃতির কাছে আমাদের দায়বদ্ধতার কথা বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আজ আমি আপনাদের সামনে শুধু কিছু পরিসংখ্যান কিংবা পরিবেশবিজ্ঞানের কঠিন শব্দ নিয়ে দাঁড়াইনি। আমি দাঁড়িয়েছি একজন নাগরিক হিসেবে, একজন লেখক হিসেবে, একজন সাংবাদিক হিসেবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার, পরিবেশ ও নাগরিক নানা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করা একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে। আজকের বক্তব্যে আমি ফিরে যেতে চাই কোটি কোটি বছর আগের সেই পৃথিবীতে, যে পৃথিবীতে মানুষ ছিল না, ছিল না নগর, কারখানা কিংবা ইট পাথরের অট্টালিকা। ছিল শুধু আকাশ, বাতাস, পাহাড়, নদী, বন, সমুদ্র আর জীবনের অদৃশ্য স্পন্দন।
একটি গল্প দিয়ে শুরু করি
একদিন এক মানুষ একটি পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে পাহাড়কে প্রশ্ন করল, “তুমি এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন? তোমার কী প্রয়োজন? তোমাকে কেটে যদি রাস্তা বানাই, ঘর বানাই, ব্যবসা করি, তাহলে তো মানুষেরই উন্নতি হবে।”
পাহাড় কোনো উত্তর দিল না।
তার বুকের গা বেয়ে নেমে আসা ছোট্ট একটি ঝরনা তখন বলল,
“আমাকে চেনো?”
মানুষ বলল, “তুমি তো সামান্য পানি!”
ঝরনা মৃদু হেসে বলল,
“আমি পাহাড়ের বুকের জল। আমি নিচে নেমে ছড়া হবো, ছড়া থেকে নদী হবো। তোমার মাঠে যাবো, তোমার ফসল জন্মাবো, তোমার ঘরে পানি পৌঁছাবো।”
ঠিক তখন পাশের একটি গাছ কথা বলল,
“আর আমাকে?”
মানুষ বলল, “তুমি তো শুধু একটি গাছ!”
গাছ বলল,

“আমি শুধু গাছ নই। আমি তোমার নিঃশ্বাসের সঙ্গী। আমি বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করি, অক্সিজেন ছাড়ি। আমার শিকড় মাটিকে ধরে রাখে, আমার ছায়া মাটিকে শীতল রাখে, আমার ডালে পাখি বাসা বাঁধে, আমার পাতায় বৃষ্টির জল থামে।”
মানুষ এবার চুপ হয়ে গেল।
পাহাড় তখন ধীরে ধীরে বলল,
“আমাকে কাটলে ঝরনা হারাবে, গাছ কাটলে মাটি হারাবে, নদী হারালে সভ্যতা হারাবে, আর প্রকৃতি হারালে মানুষ নিজেকেই হারাবে।”
বন্ধুগণ, এই গল্প কোনো কল্পকথা নয়। এটি আমাদের বাস্তব জীবনের আয়না।
পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষের অবস্থান খুবই ছোট
আমরা মানুষ নিজেদের পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী মনে করি। অথচ পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষ এসেছে প্রায় শেষ অধ্যায়ে।
পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন বছর। স্থলভাগে উদ্ভিদের বিস্তার শুরু হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি বছর আগে। বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদের বিকাশ এবং প্রাচীন বনভূমির বিস্তার ঘটেছে আরও পরে।
অর্থাৎ মানুষ আসার বহু কোটি বছর আগে পৃথিবী তার নিজস্ব নিয়মে নিজেকে সাজিয়েছে।
পাহাড় তৈরি হয়েছে।
নদী পথ কেটেছে।
বন জন্মেছে।
সমুদ্র তার ঢেউ তুলেছে।
বৃষ্টি মাটিকে ভিজিয়েছে।
অসংখ্য জীব পৃথিবীর জীবনের মহাকাব্যে নিজেদের অধ্যায় লিখেছে। মানুষ সেই মহাকাব্যের সর্বশেষ লেখক। কিন্তু আমরা যেন ভুলে গেছি, এই বইটি আমাদের লেখা নয়।
গাছ পৃথিবীর প্রাচীনতম সহযাত্রী একটি গাছকে আমরা প্রায়ই শুধু কাঠ, ফল কিংবা ছায়ার উৎস হিসেবে দেখি। কিন্তু একটি গাছের ভেতরে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির অসংখ্য জটিল প্রক্রিয়া।
গাছ বায়ুমণ্ডলের কার্বন চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার শিকড় মাটির কাঠামো ধরে রাখতে সাহায্য করে। বন বৃষ্টির পানি মাটিতে প্রবেশ ও সংরক্ষণে সহায়তা করে। গাছপালা অসংখ্য পাখি, কীটপতঙ্গ ও প্রাণীর আবাস তৈরি করে। একটি পুরোনো বনকে যদি আমরা কেটে ফেলি, শুধু কয়েক হাজার গাছ হারাই না, হারাই একটি সম্পূর্ণ জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। তাই বন মানে শুধু গাছের সারি নয়।
বন মানে মাটি, পানি, পাখি, প্রাণী, বাতাস, শিকড়, ছায়া এবং অসংখ্য অদৃশ্য জীবনের সমন্বিত সংসার।
পাহাড় প্রকৃতির জলাধার
পাহাড়কে আমরা অনেক সময় উন্নয়নের বাধা হিসেবে দেখি। কিন্তু পাহাড় প্রকৃতির বিশাল জলাধার এবং জলচক্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাহাড়ি বন বৃষ্টির পানি ধরে রাখে। সেই পানি ধীরে ধীরে ঝরনা ও ছড়ায় প্রবাহিত হয়। ছড়া নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়। নদী আবার মানুষের কৃষি, জীবিকা ও সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত হয়।
অতএব, পাহাড়ের ওপর আঘাত মানে পানির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।
পাহাড় কাটা হলে শুধু সৌন্দর্য নষ্ট হয় না। ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস, পলি পরিবহন, ঝরনার স্বাভাবিক প্রবাহ এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।
আমাদের চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো তাই শুধু ভূমির উঁচু অংশ নয়। এগুলো আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পরিবেশগত নিরাপত্তার দেয়াল।
নদী মানবসভ্যতার শিরা উপশিরা
বিশ্বের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বড় বড় সভ্যতা নদীর তীরে জন্ম নিয়েছে।
নীল নদকে ঘিরে মিশরীয় সভ্যতা, টাইগ্রিস ইউফ্রেটিসকে ঘিরে মেসোপটেমীয় সভ্যতা, সিন্ধুকে ঘিরে সিন্ধু সভ্যতা এবং গঙ্গা ব্রহ্মপুত্রকে ঘিরে বঙ্গীয় জনপদ গড়ে উঠেছে।
নদী যেন মানবসভ্যতার নীরব ধাত্রী।
বাংলাদেশকে তাই নদী ছাড়া কল্পনা করা যায় না।
আর চট্টগ্রামকে?
কর্ণফুলী ছাড়া চট্টগ্রামকে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব।
কর্ণফুলী চট্টগ্রামের প্রাণের নদী
কর্ণফুলী ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।
এই নদী চট্টগ্রামের অর্থনীতি, বন্দর, নৌপরিবহন, শিল্প, মৎস্য এবং নগরজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
কর্ণফুলীর তীরে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর, যে বন্দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার।
তাই কর্ণফুলীকে দূষিত করা মানে শুধু একটি নদীর পানি নষ্ট করা নয়। এটি চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা।
কর্ণফুলীর বুকেও ইতিহাসের ঢেউ
কর্ণফুলী শুধু অর্থনীতির সাক্ষী নয়, এটি ইতিহাসেরও সাক্ষী।
তার তীরে বাণিজ্যের পাল উঠেছে। তার বুক দিয়ে নৌযান চলেছে। তার তীরে নগর বেড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়েও নদীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
কাপ্তাই বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলীর ইতিহাসে যুক্ত করেছে উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জলাধার সৃষ্টি এবং মানুষের বাস্তুচ্যুতির মতো জটিল অধ্যায়।
অর্থাৎ কর্ণফুলীর ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
প্রকৃতিকে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু প্রকৃতির মূল্য ভুলে গেলে চলবে না।
কিন্তু সেই কর্ণফুলী আজ কাঁদছে
আজ কর্ণফুলীর পানিতে দূষণের চাপ রয়েছে। শিল্পবর্জ্য, নগরবর্জ্য, প্লাস্টিক, নৌযানের তেল, পয়ঃবর্জ্য এবং বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নদীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আমরা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলি, নদীকে ভালোবাসার কথা বলি। অথচ নদীর বুকেই ফেলে দিই আমাদের সভ্যতার আবর্জনা।
এ যেন মায়ের কোলে বসে মায়ের শরীরেই বিষ ঢেলে দেওয়া।
কর্ণফুলী আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে। আমরা তাকে কী দিয়েছি?
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ বাস্তবতা
জলবায়ু পরিবর্তন নতুন কোনো শব্দ নয়। পৃথিবীর ইতিহাসে জলবায়ু বহুবার পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানের ভয়াবহতা হলো, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবর্তনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
শিল্পবিপ্লবের পর কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যাপক ব্যবহার, বন উজাড় এবং ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে।
IPCC এর ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২০ সময়ে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল এবং মানুষের কর্মকাণ্ডই এই উষ্ণায়নের প্রধান কারণ।
এই সংখ্যা হয়তো কাগজে ছোট। কিন্তু প্রকৃতিতে এর প্রতিধ্বনি অনেক বড়।
অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, অস্বাভাবিক বৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ আমাদের সামনে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ
আমাদের বৃহত্তর চট্টগ্রাম ভৌগোলিকভাবে অসাধারণ বৈচিত্র্যময়।
একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে সমুদ্র। মাঝখানে নদী, খাল, জলাভূমি, বন এবং ঘনবসতিপূর্ণ নগর।
এই ভূপ্রকৃতি আমাদের সৌন্দর্য দিয়েছে, অর্থনীতি দিয়েছে, বন্দর দিয়েছে, জীবিকা দিয়েছে।
কিন্তু একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের চাপ সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রামকে ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে ভাবতে হবে।
উন্নয়ন চাই, কিন্তু কেমন উন্নয়ন
আমি উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই। বরং আমি মনে করি উন্নয়ন মানুষের অধিকার।
আমরা রাস্তা চাই।
সেতু চাই।
শিল্প চাই।
বন্দর চাই।
নগরায়ণ চাই।
কর্মসংস্থান চাই।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, উন্নয়নের নামে আমরা কি প্রকৃতিকে হত্যা করব?
যে উন্নয়ন পাহাড় কেটে রাস্তা বানায়, কিন্তু কয়েক বছর পর সেই পাহাড় ধসে মানুষের প্রাণ নেয়, সেটি কি টেকসই উন্নয়ন?
যে শিল্প অর্থনীতি বাড়ায়, কিন্তু নদীকে বিষাক্ত করে, সেটি কি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন?
যে নগর ভবনের সংখ্যা বাড়ায়, কিন্তু খাল ভরাট করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে, সেটি কি পরিকল্পিত নগরায়ণ?
আমাদের উত্তর অবশ্যই হতে হবে, না।
উন্নয়ন হতে হবে এমন, যেখানে অর্থনীতি ও পরিবেশ একে অপরের শত্রু নয়, বরং সহযাত্রী।
সাংবাদিক হিসেবে আমার দায়
আমি দীর্ঘ তিন যুগের লেখালেখি ও সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকতা শুধু গাছের ছবি ছাপা নয়।
সাংবাদিকতার দায়িত্ব হলো প্রশ্ন করা।
কে পাহাড় কাটছে?
কেন কাটছে?
কে অনুমতি দিচ্ছে?
কার বর্জ্য নদীতে যাচ্ছে?
কেন বর্জ্য পরিশোধন হচ্ছে না?
কার দায়িত্ব নদী রক্ষা করা?
কেন জলাধার ভরাট হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলোই পরিবেশ সাংবাদিকতার প্রাণ।
একজন সাংবাদিকের কলম কখনো কখনো একটি গাছের চারা রোপণের চেয়েও বড় কাজ করতে পারে, যদি সেই কলম অন্যায় বন্ধ করার শক্তি তৈরি করতে পারে।
নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে আমার আহ্বান
বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে আমি মনে করি, পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
আমাদের প্রয়োজন একটি সমন্বিত “চট্টগ্রাম পরিবেশ সুরক্ষা কর্মপরিকল্পনা”।
যেখানে থাকবে পাহাড় রক্ষা, বন রক্ষা, কর্ণফুলী রক্ষা, খাল উদ্ধার, জলাভূমি সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ, শিল্পবর্জ্য পরিশোধন এবং জলবায়ু সহনশীল নগর পরিকল্পনা।
শুধু প্রকল্প নয়, প্রয়োজন জবাবদিহি।
শুধু গাছ লাগানো নয়, প্রয়োজন গাছ বাঁচানো।
শুধু নদী পরিষ্কার নয়, প্রয়োজন নদীতে বর্জ্য পড়ার পথ বন্ধ করা।
শুধু পাহাড়ধসের পর উদ্ধার অভিযান নয়, প্রয়োজন পাহাড় কাটার আগেই প্রতিরোধ।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাব
বন্ধুগণ,
আমরা হয়তো আরও ৩০ বছর বাঁচব, ৪০ বছর বাঁচব।
কিন্তু আমাদের সন্তানরা?
আমাদের নাতি নাতনিরা?
তারা কেমন পৃথিবী পাবে?
আমরা কি তাদের জন্য রেখে যাব বিষাক্ত নদী, কাটা পাহাড়, উজাড় বন, দূষিত বাতাস ও জলাবদ্ধ নগর?
নাকি রেখে যাব একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী?
আজকের সিদ্ধান্তই আগামী দিনের উত্তরাধিকার।
শেষ কথা
আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই একটি উপলব্ধি দিয়ে।
একটি গাছ যখন আকাশের দিকে উঠে দাঁড়ায়, সে শুধু নিজের জন্য বাঁচে না। সে ছায়া দেয় অন্যকে।
একটি নদী যখন সাগরের দিকে ছুটে যায়, সে শুধু নিজের জন্য বয়ে চলে না। সে বহন করে মানুষের জীবন, কৃষি, মাছ, বন্দর এবং সভ্যতা।
একটি পাহাড় যখন হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, সে শুধু পাথরের স্তূপ নয়। সে ধরে রাখে বন, মাটি, পানি এবং অসংখ্য জীবনের আশ্রয়।
তাই,
গাছকে বাঁচানো মানে নিজের শ্বাসকে বাঁচানো।
পাহাড়কে বাঁচানো মানে নিজের পানির ভবিষ্যৎকে বাঁচানো।
নদীকে বাঁচানো মানে সভ্যতাকে বাঁচানো।
আর জলবায়ুকে রক্ষা করা মানে মানবজাতির ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।
আসুন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়ে তুলি, যেখানে পাহাড় থাকবে সবুজ, নদী থাকবে প্রবহমান, কর্ণফুলী থাকবে জীবন্ত, খাল থাকবে উন্মুক্ত, বন থাকবে সুরক্ষিত, আকাশ থাকবে নির্মল।
মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে নয়, প্রকৃতির হাত ধরে উন্নয়নের পথে হাঁটবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে,
“প্রকৃতি আমাদের উত্তরাধিকার নয়; প্রকৃতি আমাদের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত।”
সেই আমানতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থাকুক।
পাহাড় বাঁচুক।
গাছ বাঁচুক।
নদী বাঁচুক।
কর্ণফুলী বাঁচুক।
চট্টগ্রাম বাঁচুক।
মানুষ বাঁচুক।
ধন্যবাদ।
এ্যাড ভিশন এর পক্ষ থেকে আমাকে সেরা বক্তা ও পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত থাকায় একটি সম্মান সূচক পুরস্কার দেওয়ার হয়-