দেড়শতে নটআউট ডিম, ব্রয়লারের কেজি দুইশ

By admin
4 Min Read

এতদিন পাড়া-মহল্লায় বেশি দামে বিক্রি হলেও বাজারগুলোতে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা কেনা গেছে। এখন বাজারের ডিমের দোকানগুলোতেই প্রতি ডজনের দাম ১৫০ টাকা হয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে। আর পাড়া-মহল্লাগুলোতে কোথাও কোথাও এর বেশি দামেও বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির ডিম দুদিন আগেও ১৯০ টাকাতেও পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তা ২০০ টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ বলছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বাড়তি। অন্য একটি পক্ষ বলছে, সরবরাহ কমার পাশাপাশি আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। মালিবাগ বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মো. শরীফ জানান, কয়েকদিনের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে ফার্মের বাদামি ডিমের দাম নতুন করে বেড়েছে। গতকাল ১০০ পিসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকায় কেনা পড়েছে। কয়েকদিন আগেও যা ১ হাজার ১২০ থেকে ১ হাজার ১৩০ টাকা ছিল। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে নতুন ডিমের ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে এ বাজারের বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে। এক দিনের বেশি দুদিন বৃষ্টি হলেই সরবরাহ কম দেখিয়ে সরবরাহকারীরা দাম বাড়িয়ে দেন। তার প্রভাব খুচরা দামেও পড়ে। এক মাস আগে ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন তা লাফিয়ে বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে। কদমতলী এলাকার খুচরা বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন বলেন, ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে। কেনা দামই বাড়তি। বুধবার ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ১৪০ টাকা বিক্রি করেছি। আজ (গতকাল) তা ১৪৫ টাকা বিক্রি করছি। আর বাছাই করা বড় ডিমের ডজন ১৫০ টাকা বিক্রি করছি। কারণ জানতে চাইলে এ বিক্রেতা বলেন, বৃষ্টি হলে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। তবে, শুক্রবারের বাজারকে কেন্দ্র করে অনেক সময় দাম বাড়ে। আবার রবি-সোমবার তা কিছুটা কমেও যায়। কারণ শুক্রবার মুরগি ও ডিমের চাহিদা বাড়তি থাকে। এ সময় বৃষ্টির অজুহাত পেলে পাইকাররা অনেক সময় বাড়তি দামে সরবরাহ করেন। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে বলে জানান মালিবাগ বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. ফারুক মিয়া। তিনি বলেন, গত সপ্তাহের শেষে বাড়তি দামে বিক্রি হলেও পরে তা কমে যায়। বুধবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ টাকা বিক্রি করা গেছে। এখন পাইকারিতে বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। ফলে খুচরায় দাম বাড়াতে হয়েছে। মুরগির কেজি এখন ২০০ টাকা বিক্রি করছি। সোনালি মুরগির দামও বাড়তি রয়েছে বলে জানান কদমতলী সাদ্দাম মার্কেটের মুরগি ব্যবসায়ী মো. জিসান। তিনি জানান, শুক্রবারের বাজার ঘিরে পাইকারিতে সোনালি মুরগির দাম বাড়তি থাকে। বাড়তি দামে কেনা এ মুরগি (বড় আকারের) গতকাল খুচরায় ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। আগের দিন বুধবার যা ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি করা গেছে। আর কালারবার্ডের দাম ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৩২০ টাকা ছিল। ব্যবসায়ীরা বৃষ্টির কথা বললেও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট ডিম ও মুরগির দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার। প্রান্তিক খামারিদের সংগঠনের এ নেতা বলেন, উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় দাম বাড়তি, এটা সঠিক। বৃষ্টিতেও প্রভাব পড়ে। কিন্তু যেভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে, ততটা প্রভাবও পড়ে না। রাজধানীতে ডিম-মুরগি আশপাশের এলাকাগুলো থেকে আসে। সেখানে বৃষ্টি-বন্যার প্রভাব নেই। মূলত দামটা বাড়াচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট চক্র। ছোট খামারিদের হাতে এখন ডিম-মুরগি তেমন নেই। বড়দের হাতে আছে, তারাই দাম বাড়াচ্ছে।

Share This Article
Leave a Comment