দুদকের খুলনা পিপি নওরোজের আত্মহত্যা: পিবিআইর চার্জশিটে প্রকাশিত তদন্ত তথ্য

0
124

আদালতে পিবিআইর চার্জশিটে জানানো হয়েছে, আত্মহত্যা করেছিলেন দুদকের খুলনা বিভাগের প্রাক্তন পিপি শেখ মো. লুৎফুল কবির নওরোজ। ব্যক্তিগত ঋণ এবং ধার-দেনা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি জীবন ত্যাগের পথ বেছে নেন। ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা গ্রামের পুকুরপাড় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দুই বছরের তদন্তের পর মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) পিবিআই আদালতে দায়েরকৃত চার্জশিটে এই তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিট অনুযায়ী, নওরোজের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণ ছিল। রূপসা উপজেলার নৈহাটি গ্রামের ইব্রাহিম শেখের স্ত্রী বিলকিস বেগমের কাছ থেকে জমি বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ২২ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু জমি হস্তান্তর করতে না পারায় ১৮ লাখ টাকার চেক দেন, যা অগ্রণী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখায় অসফল হয়। ফলস্বরূপ, তার বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের মামলা হয়। এছাড়াও, গোপালগঞ্জের গোপীনাথপুর গ্রামের বারেক মিয়ারের স্ত্রী জোসনা বেগমের কাছ থেকেও তিনি ঋণ নেন। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই পীর খানজাহান আলী (রহ.) ব্রিজ থেকে রূপসা নদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ব্রিজের নিচে পিলার ও লোহার আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিহ্ন থাকে। ১৬ জুলাই মরদেহ ভেসে ওঠে, এবং মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরদিন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন নাহার ১৭ জুলাই বটিয়াঘাটা থানায় মামলা করেন। চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই জেলা আইনজীবী সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তারেক মাহমুদ তারার ড্রয়ারে নওরোজের মৃত্যুর পূর্বে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যাতে লেখা ছিল যে তার মৃত্যুর পরও আদালতের কার্যক্রম যেন একদিনও বন্ধ না হয়। পিবিআইর তদন্তে দেখা গেছে, নওরোজ মানসিকভাবে অস্থির, ঋণগ্রস্ত এবং পারিবারিক অশান্তির মধ্যে ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here