চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে দেশের আয়ের প্রধান উৎস চট্টগ্রাম: বিপিসি’র কার্য্যলয় ঢাকা হস্তান্তরে পাঁয়তারা রুখে দিবে বীরচট্টলা.

By admin
4 Min Read

চট্টগ্রামকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়—চট্টগ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানীর মূলা জুলিয়ে একের একের পর এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যলয় ঢাকায় রাখা হয়েছে। দেশের আয়ের প্রধান উৎস চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের আয়ের উৎস দিয়ে সারা বাংলাদেশ চলে। সেই চট্টগ্রাম কে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নামে মূলা ঝুলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ফায়দা লুটছে মাফিয়া সিন্ডিকেট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বাণিজ্যিক রাজধানীর সব কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়। ফলে চট্টগ্রাম আজ বঞ্চিত ও অবহেলিত। বিপিসি প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর ঘর ভাড়া নিয়ে:৫০ কোটিতে ভবন তৈরির পর ঢাকায় নেওয়ার পায়তারা-রুখে দিবে চট্টলাবাসী। পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর ঘর ভাড়া নিয়ে পার করেছে। দেশে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি খাতের আমদানি ও বিপণন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ৪৭ বছর নিজস্ব কোনো প্রধান কার্যালয় ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে চলছে পরের ঘর ভাড়া নিয়ে। বর্তমানে বিপিসির প্রধান কার্যালয়: ৫০ কোটিতে ভবন তৈরির পর এখন কার্যালয় সরিয়ে নিতে চিঠি চালাচালি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব কার্যালয়ের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। ঈদুল আজহার পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যখন চলছে, তখন এই কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়েছে। চলছে চিঠি চালাচালির কাজ। জানা গেছে, চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চেষ্টায় এ তৎপরতা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডসংলগ্ন জয়পাহাড়ের কোলে বিপিসির জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা এই ভবন। এই বিষয়ে বিপিসি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক মো. আপেল মামুন বলেন, চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি কোরবানির ঈদের কয়েক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। বিপিসি কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের পাঁয়তারার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও স্মারকলিপির ঘোষণা সচেতন চট্টলাবাসীর. চট্টগ্রামের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা স্থানান্তরের সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বন্দরনগরী। ‘সচেতন চট্টলাবাসী’-এর ব্যানারে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠন এই সিদ্ধান্ত প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে।
কর্মসূচির ঘোষণা চট্টগ্রামের স্বার্থ রক্ষায় ইতোমধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে—
নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান। বিপিসির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর রাখার দাবি।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র হওয়ায় বিপিসির প্রধান কার্যালয় এখানেই থাকা যৌক্তিক। তারা মনে করেন, কার্যালয় ঢাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে বিকেন্দ্রীকরণ নীতি ব্যাহত হবে এবং চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ন হবে। পটভূমি ও অভিযোগ ১৯৮৯ সালে সরকারের বিকেন্দ্রীকরণ নীতির অংশ হিসেবে বিপিসির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পেট্রোবাংলা ভবন থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামে বিপিসির নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে—চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধিকাংশ সময় ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম কার্যালয় কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। সচেতন মহলের দাবি, এটি ধীরে ধীরে কার্যালয় স্থানান্তরের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হতে পারে। তাই যেকোনো “গোপন পাঁয়তারা” রুখে দিতে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য নাগরিক নেতারা বলছেন— > “চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে থাকা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে ঢাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে আঞ্চলিক বৈষম্য আরও বাড়বে।” তারা আরও বলেন, বিপিসির কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে থাকাই বাস্তবসম্মত ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত।

Share This Article
Leave a Comment