
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন মেয়ে ও একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরে ওই আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার পৈতৃক বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ এবং একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মা ছিলেন নূরজাহান সিনহা। শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটানোর পর তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালে পিতার মৃত্যুর পর একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সাল পর্যন্ত। বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।